আজকাল ওয়েবডেস্ক: মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের আঁচ আরও গনগনে। সংঘর্ষের জেরে নিহতের সংখ্যা ১১৬ জন। আটকের সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়েছে। এসবের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেইনিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷
বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, 'ইরান সম্ভবত আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে । যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷' নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার রাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে ইরানের উপর হামলার জন্য সামরিক তথ্য দেওয়া হয়েছিল ৷ তবে এখনও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি
ইরানে কি মার্কিন সামরিক অভিযান?
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক পোস্ট-এর খবর অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করছেন ওয়াশিংটনের কর্তারা। বিবেচনাধীন একটি বিকল্প হল ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একটি বড় আকারের বিমান হামলা অভিযান।
তবে মার্কিন কর্তারা বলেছেন, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কোনও মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম বা সেনাসদস্যকে সরানো হয়নি। সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে- এই ধরনের পরিকল্পনা একটি রুটিন প্রক্রিয়া।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্কতা
বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত। এই বিষয়ে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছেন। গত শুক্রবার তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে গুলি না চালানোর জন্য সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ইরানের বাহিনী গুলি চালায় তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার জবাব দেবে। দেশব্যাপী বিক্ষোভ মোকাবেলায় ইরানের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পরেই ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি ছিল।
ইরানের ওপর পূর্ববর্তী মার্কিন হামলা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। জুনে, মার্কিন বাহিনী ফোরডো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র-সহ তিনটি জায়গায় অন্তত ছয়'টি বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ফেলেছিল। এই কেন্দ্রটি মাটির অনেক গভীরে, একটি পাহাড়ের প্রায় ৩০০ ফুট নিচে অবস্থিত।
এই হামলা ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সংঘাতের সময় হয়েছিল। তেহরানের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারির পর ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে ইজরায়েলি হামলার সঙ্গে সমন্বয় করে মার্কিন অভিযান করা হয়েছিল।
খামেইনির পাল্টা জবাব
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেইনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। খামেইনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে "ইরানিদের রক্তে হাত রঞ্জিত" করার অভিযোগ আনেন এবং বলেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজের দেশের সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খামেইনি আরও দাবি করেন যে, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য কাজ করছে।
ইরানে বিক্ষোভ
ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে বিক্ষোভের ওপর তাদের দমন-পীড়ন জোরদার করেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে ৭০ জন বিক্ষোভকারী। তেহরানের কর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের সাহায্যকারী যে কাউকেই "আল্লার শত্রু" হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য। আশঙ্কা যে, ইরানে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, যা সম্ভবত ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।
