আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন সফরে গিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সানায়ে তাকাইচি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-তাকাইচি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পরে একজন জাপানি সাংবাদিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে জানতে চান যে, ইরানে হামলা চালানোর আগে আমেরিকা কেন জাপান-সহ ইউরোপ ও এশিয়ার 'বন্ধু'দেশগুলোকে এই বিষয়ে আগেভাগে জানায়নি। জবাবে একঘর কূটনীতিকের সামনে আচমকা ১৯৪১ সালে জাপানের পার্ল হারবার হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলে বসেন, "আপনারা তো আচমকাই পার্ল হারবারে হামলা চালিয়েছিলেন। আগে থেকে আমাদের বলেছিলেন?" 

ভরা সভায় এতেই অস্বস্তিতে পড়েন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। 

তবে ওই সাংবাদিক বৈঠকেই যুদ্ধের আগাম আভাস কেন দেওয়া হয়নি তা ব্যাখ্যা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, "একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি চাইবেন না যে আপনার পরিকল্পনার আগাম কোনও ইঙ্গিত বা বার্তা শত্রুপক্ষের কাছে পৌঁছে যাক। আমরা যখন অভিযানে নামি, তখন অত্যন্ত কঠোরভাবেই নামি। আর আমরা কাউকে এ বিষয়ে কিছু জানাইনি, কারণ আমরা শত্রুপক্ষকে চমকে দিতে চেয়েছিলাম।" 
এরপর তিনি কৌতুকের সুরে যোগ করেন, "চমক বা আকস্মিক আক্রমণের বিষয়টি জাপান ছাড়া আর কে-ই বা ভাল বোঝে? আপনারা পার্ল হারবার হামলার কথা আমাদের কেন আগে জানাননি?" ট্রাম্প আরও বলেন, "আমার মনে হয়, চমক বা আকস্মিক আক্রমণের ওপর আপনাদের বিশ্বাস আমাদের চেয়েও অনেক বেশি।"

ট্রাম্প এখানে যে 'চমক'-এর কথা উল্লেখ করেছেন, তা হল ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে জাপানের আকস্মিক বিমান হামলা। ওই হামলায় ২,৩৯০ জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। এর ঠিক পরদিনই আমেরিকা, জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ শুরু হয়।

আমেরিকার ৩২তম প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট সেই দিনটি সমন্ধে বলেছিলেন—"এমন একটি দিন, যা চিরকাল কলঙ্কের দিন হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।" 

১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আমেরিকার পারমাণবিক বোমা হামলার মধ্য দিয়ে সেই যুদ্ধের অবসান ঘটে। ১৯৫১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকা ও জাপান একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে এবং সেই থেকে তারা একে অপরের 'বন্ধু' হিসেবেই অবস্থান করছে।

এরপর ট্রাম্প আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানকে আকস্মিকভাবে আক্রমণের সুফল বা ফলাফল সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "ওদের চমকে দেওয়াটা জরুরি ছিল এবং আমরা ঠিক সেটাই করেছি। আর সেই আকস্মিক আক্রমণের সুবাদেই—অভিযানের প্রথম দু'দিনের মধ্যেই—আমরা সম্ভবত আমাদের লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি; যা আমাদের পূর্ব-ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ছিল। আর আমি যদি আগেভাগেই সবাইকে এ বিষয়ে জানিয়ে দিতাম, তবে তো সেটা আর 'চমক' হিসেবেই গণ্য হত না।"

'বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা কেবল আপনার দ্বারাই সম্ভব': ট্রাম্পের প্রশংসায় জাপানি প্রধানমন্ত্রী

মধ্য এশিয়ায় চলমান সংঘাত বর্তমানে ২১তম দিনে গড়িয়েছে। সে প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বিশ্ব বর্তমানে "বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক এক ধাক্কার সম্মুখীন হতে চলেছে।" তবে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপরই ন্যস্ত করেন। বলেন, "আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, একমাত্র আপনিই- ডোনাল্ড - সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। আর তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যটি সম্মিলিতভাবে অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বহু অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আমি প্রস্তুত।"

তাকাইচি প্রতিবেশী অঞ্চলে ইরানের আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। পাল্টা ট্রাম্প বলেন, "আমি আশা করি জাপান এগিয়ে আসবে, বুঝতেই পারছেন - কারণ আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কটি ঠিক সেই মানেরই।"