আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার মধ্যরাতে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করেছে। এই হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে এবং অগ্নুৎপাতের ধোঁয়া দেখা গেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যমও স্বীকার করেছে। হামলার প্রকৃত কারণ বা লক্ষ্যবস্তুর বিবরণ এখনও স্পষ্টভাবে প্রকাশ হয়নি।
ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী একই সময় দেশজুড়ে বায়ু হামলার সতর্কবার্তা বাজিয়ে সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল জনসাধারণকে ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলার আগেই প্রস্তুত করা এবং নির্দিষ্ট শেল্টারে আশ্রয় নিতে বলা। সামরিক সূত্র বলেছে, এই সতর্কতা সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ ছিল যাতে নাগরিকরা সমসময় নিরাপদে চলে যেতে পারে।
এই উত্তেজনা এমন সময় বেড়েছে যখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যে বিরোধ চলছে, তা পূরণ না হওয়া থেকে তিক্ততা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইজরায়েল এই হামলাকে ‘প্রতিরোধী’ বললেও, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
Following a situational assessment, it was determined that as of today (Saturday), at 08:00, immediate changes will be made to the Home Front Command Guidelines.
— Israel Defense Forces (@IDF)
As part of the changes, it was decided to shift all areas of the country from Full Activity to Essential Activity.
The…Tweet by @IDF
ইরানের তেহরানে বিস্ফোরণ সম্পর্কে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বীকার করেছে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে কোনও বিশদ তথ্য দেয়নি। তেহরানের কোথায় বা কী ধরণের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হয়েছে সে সম্পর্কে সরকারি বয়ান এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বব্যাপী মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি বড় ঘটনার সূচনা হতে পারে, কারণ ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই অত্যন্ত টানাপোড়েনপূর্ণ। এর আগে গত বছর ইরান ও ইজরায়েলের মাঝে সংঘাতের সময় দু’দেশই একে-অপরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছিল, যেখানে কয়েকশো বিস্ফোরণ হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ রয়েছে যে, যদি ইরান উত্তরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তাহলে গোটা অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আছে। বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো রাজনৈতিক প্রভাব ও কূটনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।
