আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুজিব কন্যা হাসিনা। দু'বছর দেশের বাইরে থাকার পর, এবার ফিরবেন নিজের দেশে। মাথায় মৃত্যুদণ্ডের খাড়া। তবু সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'মৃত্যু যদি আসেই, তবে তা যেন আমার নিজের মাটিতেই আসে।' কিন্তু হাসিনা দেশে ফিরলে কী হতে পারে তাঁর সঙ্গে? প্রকাশ্যে এসেছে সেসব পরিকল্পনাও।
বিএসএস নিউজকে দএয়া সাক্ষাৎকারে ওপার বাংলার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, 'তিনি আত্মসমর্পণ করলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। তাঁকে জেলে যেতে হবে।' তাঁর মতে, 'শেখ হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুন না কেন, ভারতে হোক বা বাংলাদেশে, তাঁকে প্রথমে জেলে যেতে হবে। একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য বিবেচনা করার প্রয়োজন সরকারের নেই।' সঙ্গেই তিনি বলেন, বিদেশ থেকে হাসিনার বার্তার তাঁর মনে হয়েছে, আত্মসমর্পণের পরিবর্তে, তিনি যেন বাংলাদেশের আওয়ামী লিগের কর্মী সমর্থকদের উৎসাহিত করতে চাইছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।'
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, 'আমরা তাঁর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানাই, কারণ আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। দেশের জনগণ চায় তিনি যে অপরাধ করেছেন তার জন্য তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক এবং সেক্ষেত্রে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, কারণ জনগণ তাই দেখতে চায়।'
উল্লেখ্য, সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েই, বলেছেন, 'দেশে ফেরার পর তাঁরা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকী হত্যাও করতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। মৃত্যু যদি আসেই, তবে তা যেন আমার নিজের মাটিতেই আসে।'
এর আগে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'দেশে ফিরে আসার বিষয়টি কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়ের ওপর নির্ভর করে না। আমরা বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এটা কেবল আমার ফিরে আসার জন্যই জরুরি নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যও অপরিহার্য।'
















