আজকাল ওয়েবডেস্ক: পেশায় চিকিৎসক। এ বার অভিযান মহাকাশে। সেখানেও আরও কিছু পরীক্ষানিরীক্ষাই তাঁর লক্ষ্য। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নভোচারী অনিল মেনন মঙ্গলবার রাতে পাড়ি দেবেন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে উদ্দেশে। আগামী আট মাসব্যাপী এই মহাকাশ অভিযানে অত্যাধুনিক পরীক্ষানিরীক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। যার লক্ষ্য, মানবজাতিকে ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা। পাশাপাশি, এমন সব প্রযুক্তির উন্নতি করা যা পৃথিবীর উপকারে কাজে লাগবে। তেমনটাই জানা যাচ্ছে, সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।

 

জানা গিয়েছে, আজ রাতে কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে দুই রুশ মহাকাশচারীর সঙ্গে একটি সয়ুজ মহাকাশযানে চেপে তিনি মহাকাশে পাড়ি দেন।

 

পেশাগত জীবনে অনিল একজন এমার্জেন্সি মেডিসিন এবং এরোস্পেস মেডিসিন-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আট মাসের মিশনে তিনি একজন গবেষক হিসেবে কাজ করবেন না, এমনটা নয়। বরং মহাকাশের মাধ্যাকর্ষণহীন শক্তি মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা জানার জন্য নিজেই একজন 'টেস্ট সাবজেক্ট' হয়ে উঠবেন বা নিজের উপরেই পরীক্ষা চালাবেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা নাসা এবং তার সহযোগী দেশগুলির চাঁদ ও মঙ্গলে পরবর্তী মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতির জন্য এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে সকলে আশাবাদী।

 

অনিল তাঁর অভিযানে গভীর মহাকাশে পৃথিবী থেকেই সরাসরি চিকিৎসকের নভোচরীরা কী ভাবে সাহায্য করতে পারেন তা খতিয়ে দেখবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চালিত আল্ট্রা সাউন্ডের মাধ্যমে নিজেদের রোগ শনাক্তকরণ করা যায়, তা নিয়ে পরীক্ষা চালাবেন অনিল।

 

মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণহীন শক্তির পরিবেশে কীভাবে উচ্চমানের এবং নিখুঁত সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা যায়, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। এই প্রযুক্তি যদি সফল হয় তা হলে পৃথিবীতে পরবর্তী প্রজন্মের সুপারকম্পিউটার ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি সহজ হবে।

 

মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণহীনতার সুবিধা নিয়ে কী ভাবে মানব কোষ বা টিস্যু তৈরির বায়োপ্রিন্টিং করা যায়, তার পরীক্ষা চালানো হবে। এর ফলে মানুষের বয়স বাড়া এবং বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

 

নাসায় একজন নভোচারী হিসাবে যোগ দেওয়ার আগে অনিল মেনন একজন ফ্লাইট সার্জন হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বহু বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে বাণিজ্যিক মহাকাশ মিশন এবং নভোচারীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও। আগামী আট মাসের মিশনের প্রাপ্ত তথ্য নাসার ঐতিহাসিক 'আর্টেমিস' চন্দ্রাভিযান এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে প্রথম মানব মিশন পাঠানোর পরিকল্পনাকে আরও সহজ করে তুলবে বলেই আশা।