আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মধ্য এশিয়াতে চলা সংঘাতের জেরে যখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে, ঠিক সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাশিয়া। তারা ঘোষণা করেছে, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পেট্রোল (গ্যাসোলিন) রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। 
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী নোভাক এক সরকারি বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও রাশিয়ার জ্বালানির আন্তর্জাতিক চাহিদা যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর, যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ পেট্রোলিয়াম বাজার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমীর পুতিন এই নির্দেশ দেন। 


রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের তেল শোধনাগারগুলির উৎপাদন হার এখনও মার্চ ২০২৫-এর পর্যায়ে রয়েছে, ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল আছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন তেল সংস্থার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে এবং শোধনাগারগুলির ক্ষমতাও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দেশের চাহিদা পূরণে সহায়ক।


এই প্রেক্ষাপটে, আলেকজান্ডার নোভাক জ্বালানি মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছেন একটি প্রস্তাব তৈরি করতে, যার মাধ্যমে ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হবে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের মধ্যেও ভারত আশ্বস্ত করেছে যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে।


যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, বর্তমানে ভারতের কাছে অন্তত দু’মাসের জ্বালানির মজুত রয়েছে এবং শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় বা তারও বেশি ক্ষমতায় কাজ করছে। এছাড়া, দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করেছে।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং জ্বালানির দামে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ভারতের মতো বড় ভোক্তা দেশগুলি যদি পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখতে পারে, তাহলে এই অস্থিরতার প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।