আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রিটেনে হুলস্থূল, রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারি পদে অসদাচরণ সন্দেহে অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জেফ্রি এপস্টিন কেলেঙ্কারি নিয়ে জলঘোলা চলছে। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার এই বড় ঘটনা ঘটল।

বিবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পুলিশের ছয়'টি সাদা গাড়ি এবং প্রায় আটজন সাদা পোশাকধারী অফিসার বৃহস্পতিবারের সকালে পূর্ব ইংল্যান্ডের নরফোক কাউন্ট্রির স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের উড ফার্মে পৌঁছন। তারপরই সামনে আসে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেপ্তারের খবর।

গোপন নথিপত্রের পুলিশি তদন্ত:
চলতি মাসের শুরুতে, টেমস ভ্যালি পুলিশ বলেছিল যে- কর্মকর্তারা মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর অ্যান্ড্রু প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের কাছে গোপনীয় সরকারি নথিপত্র হস্তান্তর করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টিন সম্পর্কিত যেসব নথি প্রকাশ করেছে, তাতে ব্রিটেন ষ্ট্র ও ইউরোপের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির মধ্যে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামও রয়েছে। নথিগুলোর মধ্যে এমন কিছু ইমেইল রয়েছে, যাতে এপস্টিনকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশ, সম্প্রতি মার্কিন সরকার প্রকাশিত ফাইলগুলিতে উল্লেখ থাকা দাবিগুলি পরীক্ষা করছিল। এই নথিগুলির বিষয়বস্তু, ডিউক অফ ইয়র্কের অতীতের সম্পর্কগুলির পুনর্বিবেচনার সূত্রপাত করেছে।

বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের রিপোর্টের পর টেমস ভ্যালি পুলিশের তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এপস্টিনের দীর্ঘ ছায়া:
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর, এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও অন্যায়ের কথা ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন। আগের বিবৃতিতে অ্যান্ড্রু বলেছেন যে, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় তিনি অপমানিত, এটা তাঁরই অর্থদাতা। এই জন্য তিনি অনুতপ্ত। তবে তাঁর দাবি, তিনি কোনও বেআইনি কাজ করেননি।

মার্কিন সরকারের সর্বশেষ ফাইল প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অবশ্য অ্যান্ড্রু এ সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নেরই জবাব দেননি।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি ও কর্মকাণ্ডের তদন্তে ব্রিটেনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সহযোগিতা করা উচিত। ব্রিটেনের রাজা তথা অ্যান্ড্রুর বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লস তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো টেমস ভ্যালি পুলিশ খতিয়ে দেখলে বাকিংহাম প্যালেস সহায়তা করতে প্রস্তুত।

যদিও বৃহস্পতিবার বাকিংহাম প্যালেসের তরফেও এখনও অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের একজন শীর্ষ সদস্য এই প্রথম এমন গুরুতর আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেন। ফলে জনসাধারণের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্কও ক্রমশ বাড়ছে।