আজকাল ওয়েবডেস্ক: মানুষের সঙ্গে কুকুরের সম্পর্ক হাজার বছরের। প্রভুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা, নির্দেশ শুনে কাজ করা, কিংবা নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেওয়া—এসব আচরণ আমাদের মনে প্রশ্ন জাগায়: কুকুর কি সত্যিই মানুষের শব্দ বোঝে, নাকি শুধু স্বর ও ইশারার প্রতিক্রিয়া দেয়? সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই প্রশ্নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


গবেষণাটি পরিচালনা করেছে হাঙ্গেরির বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রাণী বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাদের লক্ষ্য ছিল কুকুর কি শুধুই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শব্দের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক স্থাপন করে, নাকি তারা শব্দের অর্থও উপলব্ধি করতে পারে। গবেষণায় ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শতাধিক কুকুর অংশ নেয়।


গবেষকরা মালিকদের দিয়ে কুকুরদের সামনে পরিচিত খেলনা ও অপরিচিত বস্তু রাখেন। এরপর মালিকরা নির্দিষ্ট খেলনার নাম উচ্চারণ করেন। দেখা যায়, অনেক কুকুর সঠিক খেলনাটি বেছে নেয়, এমনকি বস্তুগুলোর অবস্থান বদলালেও তারা নাম অনুযায়ী সাড়া দেয়। এতে বোঝা যায়, তারা শুধু গন্ধ বা অবস্থান নয়, বরং শব্দের সঙ্গে বস্তুটির মানসিক সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম।


গবেষণার প্রধান গবেষক আটিলা এনডিস জানান, কুকুরের মস্তিষ্কে শব্দ প্রক্রিয়াকরণের ধরণ অনেকাংশে মানুষের সঙ্গে মিল আছে। এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা গেছে, পরিচিত শব্দ শুনলে কুকুরের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ সক্রিয় হয়। অর্থবোধক শব্দ ও অর্থহীন শব্দের প্রতিক্রিয়ায় পার্থক্যও লক্ষ্য করা গেছে। অর্থাৎ, কুকুর শুধু স্বরের ওঠানামা নয়, শব্দের পরিচিতি ও প্রাসঙ্গিকতাও বিচার করে।


তবে গবেষণায় এটিও উঠে এসেছে যে সব কুকুর সমান দক্ষ নয়। কিছু কুকুর অসাধারণ শব্দভান্ডার আয়ত্ত করতে পারে—যেমন বিশ্বের কয়েকটি বিখ্যাত কুকুর শতাধিক খেলনার নাম মনে রাখতে পেরেছে। তবে অধিকাংশ কুকুর গড়ে ২০ থেকে ৫০টি শব্দ নিয়মিতভাবে চিনতে পারে। “বসো”, “আসো”, “না”, “খাবার”, কিংবা নিজের নাম—এই ধরনের শব্দ তাদের কাছে অর্থবহ সংকেত হিসেবে কাজ করে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের এই ক্ষমতা মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সহাবস্থানের ফল। হাজার বছরের গৃহপালন প্রক্রিয়ায় কুকুর মানুষের অঙ্গভঙ্গি, চোখের ভাষা এবং কণ্ঠস্বর বোঝার দক্ষতা অর্জন করেছে। ফলে শব্দ, স্বর ও ভঙ্গির সমন্বয়ে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ বার্তা উপলব্ধি করতে পারে।


এই গবেষণা আমাদের পোষা প্রাণীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। কুকুরকে শুধু আদেশ পালনকারী প্রাণী হিসেবে না দেখে, তাদের সঙ্গে আরও সচেতন ও অর্থপূর্ণ যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার, ইতিবাচক প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত মিথস্ক্রিয়া কুকুরের বোধশক্তি আরও উন্নত করতে পারে।

 

&t=1s
সবশেষে বলা যায়, কুকুর মানুষের প্রতিটি শব্দের অভিধানগত অর্থ না বুঝলেও, তারা শব্দের সঙ্গে অভিজ্ঞতা, আবেগ ও বস্তুগত বাস্তবতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তাই পরের বার প্রিয় কুকুরটিকে নাম ধরে ডাকলে মনে রাখবেন—সে হয়তো শুধু আপনার কণ্ঠস্বর নয়, আপনার বলা শব্দটির অর্থও বুঝছে।