আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে ইরানকে ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রথম বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি অর্থবহ পরমাণু চুক্তি করতে হবে, নয়তো ‘খারাপ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের একটি বাস্তব ও অর্থবহ চুক্তি দরকার। আলোচনা চলছে ঠিকই, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে প্রমাণ হয়েছে, ইরানের সঙ্গে এমন চুক্তি করা সহজ নয়। যদি অর্থবহ চুক্তি না হয়, তবে খারাপ কিছু ঘটবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানকে চুক্তি করতেই হবে, নইলে খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে।’

এর পাশাপাশি তেহরানকে ‘শান্তির পথে যোগ দিতে’ আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে জেনেভা-তে।

মূলত, পরমাণু সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসেছে দু’পক্ষ। সেই পরিস্থিতিতেই এমন এক মন্তব্য করে বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যাতে পরিস্থিতি সরাসরি সংঘর্ষের দিকে না গড়ায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে অতিসত্ত্বর তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা হবে নয়তো সীমিত করতে হবে।

আমেরিকার মতে, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত করার ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ বারবার খারিজ করেছে।

ইরানের বক্তব্য, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যেই তা পরিচালিত হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারির মধ্যেও দুই দেশের পক্ষ থেকেই ইঙ্গিত মিলেছে যে আলোচনা এখনও চলছে।

এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরান শীঘ্রই একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে পারে, যেখানে আমেরিকার উদ্বেগ কীভাবে সমাধান করা হবে তা ব্যাখ্যা থাকবে। ওই প্রস্তাবের উপরই নির্ভর করবে আলোচনা কোনও কাঠামোগত চুক্তির দিকে এগোবে, নাকি সম্পূর্ণভাবে অচলাবস্থায় থমকে যাবে।

উল্লেখ্য, যখন তখন ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। চলতি সপ্তাহের শেষেই এই হামলা হতে পারে। এমনই দাবি করেছে আমেরিকার দুই সংবাদমাধ্যম।

তবে তাদের প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা সরাসরি সামরিক সংঘাতে যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন হানার কথা মাথায় রেখে দেশের পরমাণুকেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষিত রাখছে ইরানও। মার্কিন সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিওরিটি’ উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দাবি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা বন্দোবস্ত আঁটসাঁট করছে তেহরান।

বাঙ্কার দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে সেগুলিকে। মার্কিন সংস্থাটির তরফে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পারচিন সেনাঘাঁটি সংলগ্ন নিউ তালেঘান ২ পরমাণুকেন্দ্রটিকে দ্রুততার সঙ্গে মাটির ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের উপগ্রহচিত্র দেখিয়ে মার্কিন সংস্থাটির দাবি, ইরানের আরও দুই পরমাণুকেন্দ্র নাতানজ এবং ইশফাহানে ঢোকার সুড়ঙ্গপথকে পাথর এবং কংক্রিট দিয়ে বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে।

সিএনএন পেন্টাগনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে ইরানে হানা দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন সেনা প্রস্তুত থাকলেও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ট্রাম্প। একটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটা সময় ব্যয় করছেন।

এটা ঘটনা, গত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক কার্যকলাপ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অঞ্চলে ৫০ এরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।