আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের প্রতি প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেই।

ট্রাম্প ইতিমধ্যেই আসিম মুনিরকে ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলেও উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রশংসা বর্তমানে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা মহলের একাংশের উদ্বেগের কারণ তো হয়ে দাঁড়িয়েছেই তার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণও হয়ে উঠছে ক্রমশ।

সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এবং গোয়েন্দা সূত্রের প্রতিবেদনে জানা গেছে, মুনিরের সঙ্গে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগ রক্ষায় মুনিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জেনারেল মুনিরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হলেও সমালোচকদের মতে, তাঁর এই অবস্থান বর্তমানে জটিল হয়ে উঠেছে।

আসিম মুনিরের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে, মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছে ক্রমশ।

পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আহমেদ সাঈদ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানিয়েছেন, মুনিরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল ইরানের প্রভাবশালী সামরিক নেতাদের সঙ্গে, যার মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত কুডোস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেমানি এবং আইআরজিসি কমান্ডার হোসেন সালামি।

এই সম্পর্কগুলির কারণে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা মুনিরের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছেন। তাদের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষের সঙ্গে মুনিরের যোগাযোগ ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরান তাদের মজুত রাখা সমস্ত "পারমাণবিক ধূলিকণা" বা ইউরেনিয়াম শেষ পর্যন্ত আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে।

গত বছরের জুন মাসে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন বিমান হামলার পর ভূগর্ভস্থ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বোঝাতেই ট্রাম্প মূলত এই বিশেষ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন। 

যদিও তেহরান বা মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও  আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা মেলেনি, তবে ট্রাম্পের এই দাবি সত্য হলে তা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমানোর পথে এক ঐতিহাসিক মোড় হতে পারে।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে আর নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেওয়া হবে না এবং মাটির গভীরে চাপা পড়ে থাকা ওই তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলো সরিয়ে ফেলতে আমেরিকা সরাসরি কাজ শুরু করবে।

গত বছরের হামলার আগে পর্যন্ত ধারণা করা হতো যে, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছিল, যা খুব সহজেই সমরাস্ত্র তৈরির উপযোগী জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

যদিও ইরান বারবার দাবি করেছে যে তাদের এই কর্মসূচির একমাত্র লক্ষ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তিতে খুব একটা ভরসা পাচ্ছেন না।

পরিসংখ্যান বলছে, ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ মেটাতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের খনি থাকা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুতের পেছনে এই বিপুল বিনিয়োগের পেছনে অন্য কোনও  উদ্দেশ্য থাকা অস্বাভাবিক নয়।