আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৭ সালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এসসিও-র আয়োজক দেশ হিসেবে সংগঠনের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো তাদের দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল অনুযায়ী সেই আমন্ত্রণ পাঠানো হবে।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “এসসিও-র সমস্ত সদস্য দেশকে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান পর্যায়ে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। আয়োজক দেশ হিসেবে এটি পাকিস্তানের বাধ্যবাধকতা।” ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছবে বলে কার্যত নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদ।
তবে এই ঘোষণার সময়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখনও যথেষ্ট উত্তপ্ত। ২০২৫ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই হামলার জবাবে ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালায় বলে দাবি করে। পাশাপাশি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এমনকি ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করে নয়াদিল্লি।
এদিকে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকে আরেকটি প্রশ্ন ওঠে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে নিয়ে। সম্প্রতি আসিয়ান কাঠামোর আওতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, তাদের কাছে এমন কোনও বৈঠকের অনুরোধের তথ্য নেই এবং এবিষয়ে তারা কোনও মন্তব্য করতে চায় না।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০০১ সালের সংসদ হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা, ২০১৬ সালের উরি হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছায়। এসব ঘটনার পর ভারত সীমান্ত পেরিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং বালাকোটে বিমান হামলার মতো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
২০০৮ সালের মুম্বই হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সংলাপ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা-র জঙ্গিরাই মুম্বই হামলা চালিয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা হলেও নতুন করে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সেই প্রচেষ্টা বারবার ভেস্তে যায়।
এসসিও কী?
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সূচনা হয় ১৯৯৬ সালে ‘শাংহাই ফাইভ’ নামে একটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী থেকে। পরে ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে এসসিও গঠন করে। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ সংগঠনের সদস্য হয়।
এসসিও-র সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হল হেডস অব স্টেট কাউন্সিল, যার বৈঠক প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রপন্থা মোকাবিলার জন্য সংগঠনটির রিজিওনাল অ্যান্টি-টেররিস্ট স্ট্রাকচার নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৭ সালের ইসলামাবাদ সম্মেলনকে ঘিরে এখন কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানে গিয়ে এই সম্মেলনে যোগ দেন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।
















