সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে নেটিজেনদের চোখ কপালে উঠেছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, তৃপ্তি নিয়ে চুকচুক করে দেদার বিয়ার খাচ্ছে কয়েকটি ছাগল। প্রথম দেখায় ঘটনাটি অত্যন্ত অদ্ভুত মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর দাবি। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলির দাবি অনুযায়ী, কিছু পশুপালক নাকি বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাগলকে চিকিৎসার অংশ হিসেবে অল্প পরিমাণে বিয়ার খাইয়ে থাকেন! তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এটি কোনও স্বাভাবিক পশুপালনের নিয়ম নয় এবং পশুচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি করা একেবারেই অনুচিত।
ভাইরাল হওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ছাগল হল রোমিন্যান্ট বা জাবর কাটা প্রাণী। এদের পাকস্থলীতে বেশ কয়েকটি কক্ষ থাকে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল রুমেন(Rumen)। এটি প্রাকৃতিক ফারমেন্টেশন বা গাজন চেম্বার হিসেবে কাজ করে, যেখানে থাকা মাইক্রোঅর্গানিজম বা অণুজীব উদ্ভিদের ফাইবার (সেলুলোজ) ভেঙে পুষ্টিতে পরিণত করতে সাহায্য করে।
পশুপালকদের একাংশের দাবি, অসুস্থতা, মানসিক চাপ বা অন্য কোনও কারণে ছাগলের রুমেন যদি ঠিকমতো কাজ না করে বা দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিপাকতন্ত্র উন্নত করতে কিছু সাপোর্টিভ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, গ্যাস-মুক্ত (flat) ডার্ক স্টাউট বিয়ারে থাকা ইয়েস্ট, গাজনের ফলে তৈরি উপাদান, বি ভিটামিন এবং কিছু খনিজ নাকি রুমেনের জন্য সহায়ক হতে পারে।
ভাইরাল দাবির পেছনে সত্যিটা কী?
ভাইরাল পোস্টে এক পশুপালক তাঁর 'ব্লিস' নামের একটি নুবিয়ান ছাগলের উদাহরণ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গর্ভধারণ, একসঙ্গে তিনটি ছানা প্রসব এবং একটি দীর্ঘ যাত্রার পর ছাগলটির ওজন মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল। এরপর স্বাভাবিক খাবার খাওয়া সত্ত্বেও তার ওজন বাড়ছিল না। ভেটেরিনারি পরামর্শ মেনেই নাকি রুমেনের কার্যকারিতা ও পুষ্টি বজায় রাখতে অল্প পরিমাণে ফ্যাট বা গ্যাস ছাড়িয়ে নেওয়া ডার্ক বিয়ার দেওয়া হয়েছিল। ভিডিওটিতে ছাগলগুলোকে সেটি আনন্দের সঙ্গে পান করতে দেখেই মানুষের কৌতূহল বহুগুণ বেড়ে গেছে।
চিকিৎসাগতভাবে এটি কি প্রমাণিত?
তবে এটি কোনও সর্বজনীন বা বৈজ্ঞানিকভাবে অনুমোদিত চিকিৎসাপদ্ধতি নয়—বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা রুমেন সুরক্ষার জন্য অন্য কোনও সমাধান বা ওষুধ দিতে পারেন, যার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ছাগলকে বিয়ার খাওয়ানো নিরাপদ বা জরুরি।
পশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো ছাগলের যদি খাওয়ার রুচি কমে যায়, ওজন না বাড়ে বা পরিপাকজনিত সমস্যা দেখা দেয়, তবে সবার আগে যথাযথ পরীক্ষা করানো উচিত। সমস্যার মূল কারণ হতে পারে কোনো ইনফেকশন, পরজীবী, পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনও রোগ। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল ভিডিও দেখে ঘরে বসে এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা পশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
















