আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বাধীনতার লক্ষ্যে ভয়ঙ্কর হামলা চালাল বালুচিস্তানের বিদ্রোহীরা। পাক সেনাবাহিনী, পুলিশ, নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে শুরু করল 'অপারেশন হেরফ ফেজ টু'। এমনটাই ঘোষণা করেছে বালুচ লিবারেশন আর্মি। যে হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন পাক সেনা, পুলিশ কর্মী, ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আধিকারিক নিহত হয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৩১ জানুয়ারি শনিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বালুচ লিবারেশন আর্মি জানিয়েছে, তারা টানা দশ ঘণ্টা পাঁচ জেলার ১২টি জায়গায় হামলা চালিয়েছে। ৮০ জন পাক সেনা জওয়ান, পুলিশ কর্মকর্তা, ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আধিকারিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। কমপক্ষে ১৮ জনকে বন্দি করেছে তারা। পাশাপাশি সরকারি অফিস, ব্যাঙ্ক, জেল-সহ ৩০টির বেশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে তারা। ২০টির বেশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। 

 

অন্যদিকে পাক সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের পাল্টা হামলায় ৩৭ জন বালুচ বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বালুচ বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ভয়ঙ্কর হামলা চালায় পাক সেনাবাহিনী। এরপরই শুক্রবার রাতে পাক সেনার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা শুরু করে বালুচ লিবারেশন আর্মি। গদর, নুশকি, কোয়েটা, মাস্তুং, পাসনিতে বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় বালুচ বিদ্রোহীরা। 

 

অন্যদিকে গতকাল পাক সেনাবাহিনীর তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ঘোষণা করা হয়েছে, হামলায় ৩৭ জন বালুচ বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়েছে। পাক সেনাবাহিনীর ১০ জন সেনা জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। শুধুমাত্র কোয়েটাতেই মৃত্যু হয়েছে চার জওয়ানের। সূত্রের খবর, গতকাল শনিবার সকালে রাজধানী কোয়েটায় বিদ্রোহীরা একটি বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আক্রমণ শুরু করে। সেই বিস্ফোরণের পরে দু'পক্ষের মধ্যে দু'ঘন্টা ধরে গুলিবর্ষণ চলতে থাকে। এর মাঝেই বিস্ফোরণও ঘটে। তারপর একটানা দশ ঘণ্টা হামলা চালানো হয়। 

 

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতনের অভিযোগ তুলে, আন্দোলন করছে বালুচিস্তান। স্বাধীন বালুচিস্তানের লক্ষ্যেই তারা প্রতিবাদ জারি রেখেছে। পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি রাখতেই গড়ে উঠেছে বালুচ লিবারেশন আর্মি। 

 

গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিঘাতের প্রশংসা করেছেন। তিনি নিহত ১০ সেনা জওয়ানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, পুরো জাতি তাঁদের জন্য গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।’