আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে অনলাইন গেমিং খাত গত কয়েক বছরে দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রক কড়াকড়ি এই শিল্পকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশেষ করে রিয়েল মানি গেমিং, বেটিং ও সম্ভাব্য জুয়ার সঙ্গে যুক্ত প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে বহু জনপ্রিয় অ্যাপ বন্ধ হয়ে গেছে বা ব্যবসার মডেল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ পিছিয়ে না গিয়ে, অনলাইন গেমিং কোম্পানিগুলি এখন নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছে।


সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে রিয়েল মানি গেমিং থেকে স্কিল-বেসড ও ফ্রি-টু-প্লে মডেলের দিকে ঝোঁকে। আগে যেখানে নগদ অর্থের লেনদেন ছিল মূল আকর্ষণ, সেখানে এখন কোম্পানিগুলি বিজ্ঞাপনভিত্তিক আয়, ইন-অ্যাপ পারচেজ এবং সাবস্ক্রিপশন মডেলের ওপর জোর দিচ্ছে। এতে আইনি ঝুঁকি কমছে এবং ব্যবহারকারীদের পরিসরও তুলনামূলকভাবে বাড়ছে।


একই সঙ্গে অনেক সংস্থা ক্যাজুয়াল ও হাইপার-ক্যাজুয়াল গেমিংকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ছোট, সহজ ও কম সময়ে খেলা যায়—এমন গেম মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। এই ধরনের গেমে নিয়ন্ত্রক বাধা কম এবং বিজ্ঞাপন থেকে স্থায়ী আয় তৈরি করা সহজ, ফলে নিষেধাজ্ঞার পর এটি একটি নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠেছে।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হল গ্লোবাল মার্কেটের দিকে সম্প্রসারণ। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন কঠোর হওয়ায় বহু অনলাইন গেমিং কোম্পানি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ল্যাটিন আমেরিকার বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী গেম ডিজাইন ও মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়াল সাপোর্ট দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করতে চাইছে।


নিষেধাজ্ঞার পর কোম্পানিগুলি রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স ও স্বচ্ছতাকেও ব্যবসার মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরছে। ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা, বয়স যাচাই, দায়িত্বশীল গেমিং এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা—এই বিষয়গুলিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে আইনি সমস্যায় না পড়তে হয়।
এছাড়াও, অনেক গেমিং সংস্থা নিজেদের এডটেক ও ই-স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করছে। প্রতিযোগিতামূলক গেমিং টুর্নামেন্ট, প্রশিক্ষণভিত্তিক গেম এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট-কেন্দ্রিক কনটেন্টের মাধ্যমে তারা নতুন রাজস্বের পথ খুলছে।

 


সব মিলিয়ে বলা যায় নিষেধাজ্ঞা অনলাইন গেমিং শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, এটি একই সঙ্গে আত্মসমীক্ষা ও রূপান্তরের সুযোগ এনে দিয়েছে। যারা সময়ের সঙ্গে নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল বদলাতে পারছে, তারাই ভবিষ্যতের এই পরিবর্তিত গেমিং ইকোসিস্টেমে টিকে থাকতে পারবে।