আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সারা বিশ্বে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এই যখন পরিস্থিতি, তখন ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরাককে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই একাধিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।


এদিকে, জানা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যে আমেরিকা বা বাকি দেশের জন্য যে অবরোধের পরিবেশ তৈরি করেছে তার জন্য এপ্রিল মাসে তেল সরবরাহে বিঘ্ন দ্বিগুণ হবে। আর তার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ইউরোপে। 


এটা ঘটনা, গত মাসে আইইএ জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের আবহ তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে তারা কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যপূরণ সে সম্ভব হয়নি, তা কার্যত স্বীকার করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)–র প্রধান ফাতি  বিরোল। তাঁর কথায়, ‘‌এপ্রিল মাসে তেলের ক্ষতি মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হবে, তার সঙ্গে এলএনজি–র ক্ষতিও যুক্ত হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের অভাব। আমরা এশিয়ায় তা দেখছি, তবে আমার মনে হয় দ্রুত এপ্রিল বা মে মাসে, তা ইউরোপেও পৌঁছাবে।’


জানা গিয়েছে, আমেরিকা–ইজরায়েল ও ইরানের এই সংঘাতের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গিয়েছে। 


এটা ঘটনা, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর ২ মার্চ থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহণের পথ। এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ না তুললে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হামলাও চালাচ্ছেন। কিন্তু তাতে হেলদোল নেই তেহরানের। এই পরিস্থিতিতে কুয়েত ও ইরাকের মতো উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালী না খুললে তাদের তেল পাঠানোর কোনও উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব যে ভয়ঙ্কর জ্বালানির সঙ্কটে ভুগবে তা বলাই বাহুল্য।