আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের মাটিতে কর্মী ছাঁটাই এবং বলপূর্বক বদলির নির্দেশে ইতিমধ্যেই তোপের মুখে পড়েছে ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আন্তর্জাতিক স্তরে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল তারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আদালত 'ট্রেড সিক্রেট' চুরি সংক্রান্ত একটি মামলায় টিসিএস-এর আপিল শুনতে অস্বীকার করেছে। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। তবে সবশেষে টিসিএস-কে প্রায় ২২০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকারও বেশি) আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর টিসিএস জানিয়েছে, তাদের এ ছাড়া অতিরিক্ত ৭০ মিলিয়ন ডলার এককালীন খরচ বাবদ দিতে হবে। আগের হিসাব এবং বর্তমান জরিমানা মিলিয়ে এই মামলায় কোম্পানির মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২২০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত আমেরিকার জীবন বিমা সফটওয়্যার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। ১৯৯০-এর দশকে 'ডিএক্সসি টেকনোলজি' -এর পূর্বসূরি সংস্থা 'কম্পিউটার সায়েন্সেস কর্পোরেশন' বিমা খাতের জায়ান্ট 'ট্রান্সআমেরিকা'-কে একটি নিজস্ব জীবনবিমা সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের লাইসেন্স দিয়েছিল।
পরবর্তীকালে, টিসিএস ওই 'ট্রান্সআমেরিকা' সংস্থা থেকে প্রায় ২,২০০ জন কর্মীকে নিজেদের সংস্থায় নিয়োগ করে। অভিযোগ, টিসিএস ওই কর্মীদের মাধ্যমে সিএসসি-র সেই গোপন সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তিগত তথ্য হাতে পেয়ে যায়। যা ব্যবহার করে নিজেদের একটি প্রতিযোগী বিমাসংস্থার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। এই 'ট্রেড সিক্রেট' চুরির অভিযোগে ২০১৯ সালে ডালাসের একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতে টিসিএস-এর বিরুদ্ধে মামলা করে সিএসসি। যা পরে ডিএসসি টেকনোলজির অংশ হয়।
২০১৯ সালে ডিএক্সসি-র তরফে টিসিএস-এর বিরুদ্ধে গোপন তথ্য অপব্যবহারের মামলা দায়ের হয়। টিসিএস অবশ্য শুরু থেকেই এই দাবি অস্বীকার করে। জানায়, তারা আইন মেনেই সফটওয়্যার ব্যবহার করেছিল। ২০২৩ সালে মার্কিন জুরি বোর্ড জানায় যে টিসিএস জেনেশুনে এই তথ্য চুরি করেছে। সে জন্য ২১০ মিলিয়ন ডলার জরিমানার সুপারিশ করে। এর পর সেই নিয়ে অনেক টালবাহানা চলে। শেষ চেষ্টার জন্য ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় টিসিএস। তবে গতকাল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট টিসিএস-এর আপিল খারিজ করে দেয়। নিম্ন আদালতের ১৬৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানার রায়ই বহাল রাখে।
আদালতে টিসিএস-এর যুক্তি ছিল, ডিএক্সসি-র কোনও সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়নি। তাই মার্কিন আইন অনুযায়ী এত বিপুল অঙ্কের জরিমানা দেওয়া যুক্তিহীন। কিন্তু ডিএক্সসি পালটা দাবি করে, নিম্ন আদালত আইন মেনেই সঠিক বিচার করেছে। এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার যোগ্যই নয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টও ডিএক্সসি-র যুক্তিতেই সিলমোহর দেয়। এই রায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি টিসিএস-এর ভাবমূর্তি অনেকাংশে নষ্ট করল বলে বিশেষজ্ঞদের মত















