আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স ফের ইতিহাস গড়ল। শেয়ারবাজারে দুর্দান্ত উত্থানের জেরে কোম্পানিটি মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের নিরিখে অ্যামাজন এবং মাইক্রোসফটকে পিছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক আইপিও-র পর থেকেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দামে বিস্ফোরক বৃদ্ধি দেখা গেছে, যার ফলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্থার বাজারমূল্য কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। 


বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেসএক্সের এই উত্থান শুধু মহাকাশ শিল্পের জন্য নয়, গোটা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ জগতের জন্যও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এত অল্প সময়ে এত বড় মূল্যায়নে পৌঁছানো খুব কম কোম্পানির পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহ এবং ইলন মাস্কের নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাই এই রেকর্ড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। 
স্পেসএক্সের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংস্থার একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রকল্প।

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি, স্টারলিঙ্গ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা, গভীর মহাকাশ অভিযান এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশনের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে সংস্থাটি মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উদ্ভাবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রেও সংস্থার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। 


শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম কয়েকটি ট্রেডিং সেশনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় টানা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এই র্যাসলির ফলে কোম্পানির বাজারমূল্য দ্রুত বেড়ে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের কাছাকাছি পৌঁছে যায় এবং পরে তাদেরও ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি সংস্থাগুলির তালিকায় স্পেসএক্স এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছে। 


বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য এই দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সতর্কতাও প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল হলেও বর্তমান মূল্যায়ন ভবিষ্যতের উচ্চ প্রত্যাশার উপর অনেকটাই নির্ভর করছে। ফলে আগামী দিনে কোম্পানির আয়, মুনাফা এবং ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের গতি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে কিনা, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। 


অন্যদিকে, ইলন মাস্কের নেতৃত্বে স্পেসএক্সের দ্রুত উত্থান আবারও প্রমাণ করল যে মহাকাশ শিল্প আর শুধুমাত্র সরকারি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বেসরকারি সংস্থাগুলিও এখন এই খাতে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দিচ্ছে। রকেট উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, মহাকাশ পর্যটন এবং এআই ভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ফলে স্পেসএক্স আগামী কয়েক বছরেও বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী কোম্পানি হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 


স্পেসএক্সের এই নজিরবিহীন সাফল্য শুধু ইলন মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকেই আরও শক্তিশালী করেনি, বরং বিশ্ব শেয়ারবাজারেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, সংস্থাটি ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কতটা এগিয়ে যেতে পারে।