আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন দেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী। বিশেষ করে ১৬শ শতকের ফরাসি জ্যোতিষী ও ভবিষ্যদ্বক্তা নস্ত্রাদামুসের লেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তার বিখ্যাত বইতে একটি অংশে উল্লেখ করা “মৌমাছির ঝাঁক” নিয়ে এখন নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। অনেকের মতে, এটি বর্তমান ড্রোন যুদ্ধের প্রতীক হতে পারে।
নস্ত্রাদামুস ১৫৫৫ সালে লেখা তার বইয়ে বহু অস্পষ্ট কবিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নানা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার একটি অংশে বলা হয়েছে: “The great swarm of bees will arise… by night the ambush…।” এই লাইনগুলো বহু বছর ধরে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক বলেছেন, আবার কেউ আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির সঙ্গে মিল খুঁজে দেখেছেন।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দেখে অনেকেই বলছেন, “মৌমাছির ঝাঁক” আসলে ড্রোনের প্রতীক হতে পারে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শত শত ছোট আকারের ড্রোন একসঙ্গে আক্রমণ চালাতে পারে, যা অনেকটা মৌমাছির ঝাঁকের মতোই আচরণ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক ড্রোনই “ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন” বা আত্মঘাতী ড্রোন। এগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পর বিস্ফোরিত হয়—যেমন মৌমাছি হুল ফোটানোর পর মারা যায়। এই কারণেই অনেকে নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে এই প্রযুক্তির মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও উন্নত ড্রোন ব্যবহার করছে। মার্কিন বাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট এই ধরনের আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। এই ড্রোনগুলোর প্রতিটির দাম প্রায় ৩৫,০০০ ডলার এবং এগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্যই তৈরি।
অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এই ধরনের ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর উপর কিছু সময় ভেসে থেকে সঠিক মুহূর্তে আঘাত হানে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে বড় ধরনের ক্ষতি করার ক্ষমতা থাকায় আধুনিক যুদ্ধে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
নস্ত্রাদামুস তার লেখায় আরও একটি দীর্ঘ যুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তার একটি কবিতায় বলা হয়েছে, “Seven months great war, people dead through evil…”। অনেক অনুসারী মনে করছেন, এটি বর্তমান সংঘাতের দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে।
বর্তমানে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে।
তবে ইতিহাসবিদরা মনে করিয়ে দেন, নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সাধারণত খুবই অস্পষ্ট এবং বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। তাই আধুনিক ঘটনার সঙ্গে সেগুলো মেলানো অনেক সময়ই অনুমানের উপর নির্ভর করে।
তবুও রহস্যময় এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আজও মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে রাখে—বিশেষ করে যখন বিশ্ব রাজনীতি অস্থির হয়ে ওঠে।
