আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন মুলুকেই জনগণের তীব্র ক্ষোভ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে। যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে এবার রাস্তায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তায় জড়ো হয়েছেন কয়েক লক্ষ বাসিন্দা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়েছে ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের আঁচ ইউরোপেও। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরানে একমাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে 'নো কিংস' আন্দোলনের সাক্ষী আগেও থেকেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু গত কয়েকবারের তুলনায় গতকাল আরও কয়েক লক্ষ বেশি মানুষ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। 

 

পরিসংখ্যান বলছে, গত জুন মাসে 'নো কিংস' আন্দোলনের প্রথম দুই দফায় পাঁচ মিলিয়ন মানুষ সামিল হয়েছিলেন। অক্টোবরে এই আন্দোলনেই সাত মিলিয়ন মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। শনিবার ট্রাম্প বিরোধী আন্দোলনে নয় মিলিয়ন মানুষ সামিল হয়েছেন বলে এখনও পর্যন্ত জানা গেছে। নিজের দেশেই ট্রাম্পকে ঘিরে যে আরও ক্ষোভের পারদ চড়ছে, তা লক্ষনীয়। 

 

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল একযোগে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু কোনও দেশ আক্রমণ করছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাই এই যুদ্ধ অসম্পূর্ণ, একপাক্ষিক। ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে মার্কিন সেনা অভিযান প্রত্যাহার করার দাবিতে ৫০টি প্রদেশেই লক্ষাধিক মানুষ পথে নেমেছেন। এমনকী ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সকলে। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গেছে, গতকাল ৩২০০টিরও বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, শিকাগো, ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়াতে রাস্তায় রাস্তায় ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে সামিল হয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। সকলের হাতেই 'নো কিংস' পোস্টার, ট্রাম্পের ছবি, যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ব্যানার। 

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একযোগে হামলা করেছিল। যে হামলায় ইরানের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিলেও, আদৌ যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই। শনিবার রাতেই ইরান প্রতিবেশী দেশে হামলা করেছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালী ইরান বন্ধ করে দিতেই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আঁচ আরও ছড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ নিয়েই সাম্প্রতিককালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।