আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত এক বছরের মধ্যে মস্কোয় এত বড় হামলা আর হয়নি। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ‘তাস’- মারফত জানা গিয়েছে এই খবর। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের রাজধানী কিভে রাশিয়ার বিরাট হামলার জবাব দিতেই এই পাল্টা আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ওই হামলায় অন্তত ২৫ জন মারা গিয়েছিলেন। এমনকী বহু মানুষ আহত হন।
রাতভর চলে ড্রোন হামলা। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালের মধ্যে এই ড্রোন হামলায় মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে খিমকি শহরে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, একটি ড্রোন সরাসরি একটি বাড়িতে এসে পড়ায় এই ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন আটকে রয়েছেন।
অন্য দিকে, মস্কোর উত্তর-পূর্বে মিতিশ্চি এলাকায় একটি বাড়ির ওপর ড্রোনের টুকরো ভেঙে পড়ায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানী ও তার আশেপাশে সব মিলিয়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি তেল শোধনাগারের নির্মাণকর্মীরাও আছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, তারা রাতভর অভিযানে ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আকাশে ধ্বংস করেছে। মেয়র সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, এর মধ্যে শুধু মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা ১২০টিরও বেশি ড্রোনকে গুলি করে নামিয়েছে রাশিয়ার বাহিনী।
জানা গিয়েছে, ড্রোনের জ্বলন্ত টুকরো পড়ে সুবোতিনো গ্রামের একটি বাড়িতে আগুন লেগে যায়। এ ছাড়া ইস্ত্রা শহরে বেশ কিছু ফ্ল্যাট বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চার জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরের ভেতরেও কিছু ড্রোনের টুকরো ভেঙে পড়ে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রুশ সরকারি সংবাদ সংস্থা টেলিগ্রামে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি বাড়ি আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে। বেশ কিছু বহুতল ভেঙে পড়েছে। তবে জায়গাগুলোর নাম স্পষ্ট করা হয়নি।
অন্য দিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়াও রাতভর তাদের লক্ষ্য করে ২৮৭টি ড্রোন ছুড়েছিল। এতে নিপ্রোপেত্রভস্ক এবং জাপোরিঝিয়া এলাকায় অন্তত নয় জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ছোড়া ড্রোনের মধ্যে মাত্র আটটি ছাড়া বাকি সব ক’টি তারা আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেই রাশিয়ায় প্রতি বছরের মতো জাঁকজমক না করে বেশ ছোট করে ‘বিজয় দিবস’-এর প্যারেড করা হয়েছিল। রাশিয়ার ভেতরে, বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের একের পর এক হামলার কারণেই মস্কো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
রবিবার সকালে যখন এই হামলা চলছিল, ঠিক তখনই ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর প্রধান তাঁর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে মস্কোর অভিজাত এলাকা ‘পাত্রিয়ার্চি’র বাসিন্দাদের উদ্দেশে একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “পাত্রিয়ার্চি এবং তার আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা এত দিন যে শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছিলেন, সেই দিন এবার শেষ।”















