আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ পেরুর আন্দিজের একটি পাহাড়ের ধারে প্রায় ৫,২০০টি গর্ত প্রায় ১০০ বছর ধরে রহস্য হিসেবে রয়ে গিয়েছিল। মন্টে সিয়েরপে বা সর্পেন্ট পর্বত, পাহাড়ের পাদদেশে খনন করা ৫২০০টি প্রাচীন গর্ত রয়েছে। ১৯৩৩ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর গর্তগুলি প্রকাশ্যে আসে। গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে সেগুলি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে বিভিন্ন তত্ত্ব খাঁড়া করেছেন।
প্রাথমিকভাবে, এই গর্তগুলিকে ইনকা-পূর্ব সভ্যতার অব্যবহৃত কবর বলে মনে করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যান্টিকুইটি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এখন প্রায় ১.৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই গর্তগুলির আসল সত্য উদঘাটিত হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক জ্যাকব বোঙ্গার্স একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “প্রাচীন মানুষ কেন দক্ষিণ পেরুর পাদদেশে পাঁচ হাজারেরও বেশি গর্ত তৈরি করত? আমরা জানি না কেন সেগুলি এখানে আছে, তবে আমরা কিছু আশাব্যঞ্জক নতুন তথ্য তৈরি করেছি যা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তুলে ধরেছে আমাদের সামনে। এমনকি সেই তথ্য গর্তগুলির ব্যবহার সম্পর্কে অভিনব তত্ত্বগুলিকে সমর্থনও করে।”

গবেষকদের দাবি, গর্তগুলি প্রাক-ইনকা বাজারের অংশ ছিল এবং এটি পরে ভাগাভাগির হিসেব রাখার ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছিল। ‘ব্যান্ড অফ হোলস’ নামে পরিচিত এই স্থানে প্রায় তিন থেকে ছয় ফুট প্রশস্ত গর্ত রয়েছে যা তিন ফুট পর্যন্ত গভীর। বনজার্স বলেন, “পলির নমুনার মাইক্রোবোটানিক্যাল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে যে ভুট্টা এবং প্রাচীন বন্য উদ্ভিদ সাধারণত ঝুড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত হত। সম্ভবত সেগুলি গর্তে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। মাটি বিশ্লেষণ খুবই আকর্ষণীয় ছিল এবং জানা গিয়েছে যে এটি সম্ভবত প্রাক-ইনকা বাজার ছিল। তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী (সমুদ্র ভ্রমণকারী ব্যবসায়ী এবং লামা ক্যারাভান), বিশেষজ্ঞ (কৃষক এবং জেলে) এবং অন্যান্যরা ভুট্টা এবং তুলার মতো স্থানীয় পণ্য বিনিময় করার জন্য সঞ্চয় করে রাখা হত সেখানে।”
আরও একটি আশ্চর্যজনক আবিষ্কার হল যে, গর্তগুলির বিন্যাসটি একটি প্রাচীন গিঁটযুক্ত স্ট্রিং অ্যাকাউন্টিং ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যা ইনকা লোকেরা একসময় একই উপত্যকায় ব্যবহার করত। বিশ্লেষণটি সম্ভব করেছিল ড্রোন প্রযুক্তি। দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং গবেষণার সিনিয়র সহ-লেখক চার্লস স্ট্যানিশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “একবার আমরা নির্ভুল, কম উচ্চতার ছবি পেয়েছিলাম, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এই স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অধ্যয়ন করা উচিত। কিছু উত্তর পাওয়া সত্ত্বেও, এখনও আরও রহস্য রয়েছে।” ড. বঙ্গার্স বলেছেন, “কেন এই স্মৃতিস্তম্ভটি কেবল এখানেই দেখা যায় এবং পুরো আন্দিজ জুড়ে নয়? মন্টে সিয়েরপে কি এক ধরণের ‘ল্যান্ডস্কেপ খিপু’ ছিল?” তিনি ভবিষ্যতে রহস্যময় স্থানটি সম্পর্কে আরও রহস্য উন্মোচন করার আশা করছেন।
