আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভূমিকম্পে মৃত প্রায় সতেরোস’শ। একপ্রকার তছনছ অবস্থা মায়ানমার জুড়ে। মৃতের স্তূপ, তৎপরতার উদ্ধারকার্য, স্বজন-তল্লাশি, প্রিয়জন হারানোর হাহাকার, উপচে পড়া ভিড় হাসপাতালে। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত পড়শি দেহ। ইতিমধ্যে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। পরিস্থিতি বিচারে গৃহযুদ্ধে সাময়িক বিরতি ঘোষণা করেছে সেখানকার সরকার বিরোধী গোষ্ঠী।
তার মাঝেই বড় বার্তা ভূবিজ্ঞানীর। মার্কিন ভূবিজ্ঞানী জেস ফিনিক্স আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থায় মায়ানমারের ভূমিকম্পের কারণ, বর্তমান অবস্থা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মায়ানমারে শুক্র-সকালের ভূমিকম্পের কারণ ছিল ইউরেশীয় পাতের সঙ্গে ভারতীয় পাতের সংঘর্ষ। এবং সেই সংঘর্ষ এখনও থামেনি বলেই মত তাঁর। ইতিমধ্যে মায়ানমার ১৫ বা কেঁপে উঠেছে। ভূমিকম্প এবং ১৪টি আফটার শক। মার্কিং ভূবিজ্ঞানীর আশঙ্কা আফটারশক চলতে পারে আরও। অর্থাৎ আরও ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের আশঙ্কা।
শুধু তাই নয়। ফিনিক্সের মতো, মাটির নীচে যে দুই পাতের সংঘর্ষ হয়েছে তার ফলে নির্গত হয়েছে ব্যাপক পরিমাণ শক্তি, হিসেবে যা অন্তত ৩৩৪টি পরমাণু বোমার শক্তির সমান। সেই কারণেই কম্পন এত তীব্র এবং এই বিশাল সংখ্যার আফটারশক।
শুক্রবার সকালে মায়ানমারে পরপর ভূমিকম্প হয়। কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৭। তথ্য, ভুমিকম্পের পর অন্তত ১৫বার আফটার শক অনুভূত হয়। মার্কিন জিওলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমারের মান্দালয়ে ভূমিকম্পের উৎস ছিল। উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি নীচে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী নেপিদ। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মায়ানমারের বিস্তৃত এলাকার বাড়িঘর, স্মৃতিসৌধ, মসজিদ। উপড়ে গিয়েছে শয়ে শয়ে গাছ। ফাটল ধরেছে রাস্তায়, সেতুতে। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, মোবাইলের টাওয়ার। বহু এলাকা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। হাসপাতাল গুলিতে ভিড়। শনিবারেই সে দেশে জারি জরুরি অবস্থা। পরিস্থিতি বিচারে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারতও।
মায়ানমারের সরকারি তথ্য, শুক্রবারের ভূমিকম্পের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬৪৪ জনের প্রাণ গিয়েছে। ৩৪০৮জন আহত, এখনও খোঁজ মেলেনি বহু মানুষের। থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, ব্যাংককে নিখোঁজ ৮৩জন, আহত অন্তত ৩০।
