আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধ আসন্ন? ইরানের দিকে এগিয়ে চলেছে বিশাল মার্কিন বাহিনী। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টই জানিয়েছেন, আমেরিকান নৌবাহিনী ইরানের দিকে এগোচ্ছে। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই বাহিনীকে ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। ডোনাল়্ ট্রাম্পের কথায়, "আমাদের একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে। আমরা দেখব কী হয়। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।"
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করার সম্ভাবনাকে খারিজ করে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক্ষেত্রও তাঁর সুর সেদিকেই। তবুও নৌবহরের চলাচল ঘোষণা করে যে ইরানের উপর চাপ বাড়িয়ে রাখলেন ট্রাম্প।
সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তবে, বিক্ষোভ এখন আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ফলে ট্রম্পের সুরও নরম হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, তাঁর হস্তক্ষেপেই ইরানের মোল্লা প্রশাসকরা বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "আমি বৃহস্পতিবার ৮৩৭টি ফাঁসি বন্ধ করেছি। ওরা (বিক্ষোভকারী) মারা যেত। ওদের প্রত্যেককে ফাঁসি দেওয়া হতো।" তিনি এই ধরনের মৃত্যুদণ্ডগুলোকে "এক হাজার বছর আগের" ঘটনা বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যাদের মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তারা "বেশিরভাগই যুবক।" দাবি করেন যে, গুরুতর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর তেহরান পিছু হটেছে। ট্রাম্প বলেন, "আমি বলেছিলাম, যদি তোমরা ওই লোকদের ফাঁসি দাও, তাহলে তোমাদের এমনভাবে আঘাত করা হবে যা তোমরা আগে কখনও পাওনি। এতে তোমাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমরা যা করেছি তা কিছুই মনে হবে না।"
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে তা বাতিল করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, "এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটার এক ঘণ্টা আগে তারা মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে দেয়। মনে রাখতে হবে যে, স্থগিত - ওরা সত্যি , মৃত্যুদণ্ড বাতিলই করেছিল। যা ভাল লক্ষণ ছিল।"
মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মতে, মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন যে- একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গত সপ্তাহে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার এবং যুদ্ধবিমান এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে। বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করেন আর কোনও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে না, তবে ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে, তাহলে ওয়াশিংটন জবাব দেবে বলে তিনি সতর্ক করেন। দাভোসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে পারবে না। যদি ওরা তা করে, তাহলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।"
রাষ্ট্রসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) অন্তত সাত মাস ধরে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যাচাই করেনি, যদিও নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি মাসে পরিদর্শনের কথা।
অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, তেহরানের মোল্লা শাসকদের দমনপীড়ন অত্যন্ত কঠোর ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা এই অস্থিরতার সঙ্গে সম্পর্কিত ৪,৫০০-এরও বেশি মৃত্যুর ঘটনা যাচাই করেছে, যার মধ্যে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রয়েছেন এবং আরও হাজার হাজার ঘটনা পর্যালোচনাধীন রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা শত শত নিরাপত্তা কর্মীসহ ৫,০০০-এরও বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন।
