ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। অনেকেই ফিক্সড ডিপোজিটে লগ্নি করেন শুধু টাকার অঙ্ক বাড়ানোর জন্য। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই, এফডি থেকেও নিয়মিত মাসিক আয় করা যায়। সঠিক ইন্টারেস্ট পেআউট অপশন বেছে নিলেই প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা পাওয়া সম্ভব। এই আয় দিয়ে দৈনন্দিন খরচ চালানোর কাজও সহজ হয়ে যায়।
2
8
মাসিক এফডি প্ল্যান কী? ফিক্সড ডিপোজ়িট করার সময় গ্রাহক ঠিক করতে পারেন সুদের টাকা কী ভাবে নেবেন। মূলত দু'টি অপশন থাকে - কিউমুলেটিভ এবং নন-কিউমুলেটিভ।
3
8
কিউমুলেটিভ অপশনে সুদ প্রতি বছরে মূল টাকার সঙ্গে যোগ হয়। মেয়াদ শেষে একসঙ্গে পুরো টাকা পাওয়া যায়। চাইলে তা অটো রিনিউও করা যায়।
অন্যদিকে, নন-কিউমুলেটিভ অপশনে সুদের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে নিয়মিত পাওয়া যায় (মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে)। যাঁরা মাসিক আয় চান, তাঁরা সাধারণত এই অপশন বেছে নেন।
4
8
কিউমুলেটিভ ও নন-কিউমুলেটিভ এফডি কী?যখন এফডি-র সুদ বছরে একবার কম্পাউন্ড হয়ে মেয়াদ শেষে দেওয়া হয়, তখন তাকে কিউমুলেটিভ ফিক্সড ডিপোজিট বলা হয়। আর যখন সুদ প্রতি মাসে, তিন মাসে বা বছরে দেওয়া হয়, তখন তাকে নন-কিউমুলেটিভ ফিক্সড ডিপোজ়িট বলা হয়। এখন প্রশ্ন হল, মাসিক পেআউট নেবেন, নাকি মেয়াদ শেষে পুরো টাকা নেবেন - কোনটা বেশি লাভজনক? একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক।
5
8
ধরা যাক, কেউ বার্ষিক ৮ শতাংশ সুদের হারে ১০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজ়িট করলেন। যদি মাসিক পেআউট অপশন নেওয়া হয়, তাহলে প্রতি মাসে পাওয়া যাবে প্রায় ৬ হাজার ৬৬৬ টাকা। ৫ বছরে মোট সুদ পাওয়া হবে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট প্রাপ্তি হবে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা।
6
8
অন্যদিকে, যদি কিউমুলেটিভ অপশন নেওয়া হয় এবং সুদ বছরে কম্পাউন্ড হয়, তাহলে ৫ বছরে টাকা বেড়ে হবে প্রায় ১৪ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে সুদ পাওয়া যাবে প্রায় ৪ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ মাসিক পেআউটের তুলনায় কিউমুলেটিভ এঅফডি-তে প্রায় ৬৯ হাজার ৩০০ টাকা বেশি পাওয়া যায়।
7
8
মাসিক সুদ পাওয়া এফডি-র সুবিধা: অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা যাঁরা নিয়মিত আয় চান, তাঁদের জন্য মাসিক এফডি বেশ উপযোগী। কারণ - মাসে মাসে নির্দিষ্ট টাকা পাওয়া যায়। ফলে আয়ের নিশ্চয়তা থাকে। প্রতি মাসে কত টাকা আসবে জানা থাকে। খরচের পরিকল্পনা করা সহজ হয়। মাসিক সুদ হাতে থাকলে দৈনন্দিন খরচ, জরুরি প্রয়োজন বা ছোটখাটো বিনিয়োগ করা যায়। নগদের জোগান বজায় থাকে। মাসিক সুদের টাকা মিউচুয়াল ফান্ড বা রেকারিং ডিপোজিটে লাগিয়ে আরও সম্পদ তৈরির সুযোগ রয়েছে।
8
8
সব মিলিয়ে যাঁরা নিয়মিত আয় চান, তাঁদের জন্য নন-কিউমুলেটিভ এফডি ভাল বিকল্প। আর যাঁদের লক্ষ্য বেশি রিটার্ন, তাঁরা কিউমুলেটিভ এফডি বেছে নিতে পারেন। বিনিয়োগের আগে নিজের প্রয়োজন ও আর্থিক লক্ষ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।