আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের 'বি-১' সেতুতে হামলার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন- "খুব দেরি হওয়ার আগেই" তেহরান যেন একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প একটি ভিডিও পোস্ট করেন।, সেখানেই দেখা যাচ্ছে ইরানের সবচেয়ে বড় সেতু 'বি-১'  হামলায় ধসে পড়ছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিমান হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজের সংযোগকারী একটি মহাসড়ক সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় দু'জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, দিনের শুরুতে এক বিমান হামলার পর সেতুটিতে দাউদাউ করে জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে।

ট্রাম্প বেশ আক্রমণাত্মক সুরেই হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরান যদি তাদের বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন না করে, তবে তাদের চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, "যে দেশের এখনও একটি মহান রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না!"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর কথায় ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যে, এই সেতুতে হামলার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এর আগে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বিবিসি-কে জানিয়েছিল যে, এই হামলা সম্পর্কে তাদের কোনও পূর্বধারণা ছিল না। অন্যদিকে 'দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল' তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলাতেই ইরানের 'বি-১' সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাল্টা হামলার মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রেখেছে ইরান 
এদিকে, ট্রাম্প যখন দাবি করছিলেন যে ইরানের হুমকি অনেকটাই প্রশমিত হয়ে এসেছে, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। 

বৃহস্পতিবার ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর দিকে আরও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তেহরান প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ট্রাম্প তেহরানের হুমকি প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করলেও, তারা এখনও এই অঞ্চলের যেকোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইরানের হামলা এবং 'হরমুজ প্রণালী'র ওপর তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। যার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটিই হয়ে উঠেছে ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা। যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর কীভাবে ফের হরমুজ প্রণালীটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ব্রিটেন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক বা টেলি-আলোচনার আয়োজন করেছিল।

ট্রাম্প অবশ্য বলেছিলেন যে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই এই প্রণালীটি দখল করা সম্ভব। তবে সেই কাজটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করবে না। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি হরমুজ প্রণালীর তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, তারা যেন "তাদের সুপ্ত সাহসটুকু এবার সঞ্চয় করে" এবং নিজেরাই এগিয়ে গিয়ে "প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।"

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার আগ পর্যন্ত এই জলপথটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল এবং বিশ্বব্যাপী কেনাবেচা হওয়া মোট তেলের ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।