আজকাল ওয়েবডেস্ক: অস্ট্রিয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়ে ‘ম্যাজিক মাশরুম’ খাওয়ার পর ভয়াবহ মানসিক বিকারের জেরে এক ব্যক্তি নিজেই ভোঁতা কুঠার দিয়ে নিজের লিঙ্গ কেটে ফেলেন এবং সেটি বরফ ভর্তি একটি জারে সংরক্ষণ করেন। চিকিৎসকেরা এই বিরল ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন—সাইকেডেলিক ড্রাগের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি চার-পাঁচটি ম্যাজিক মাশরুম (যার সক্রিয় উপাদান সাইলোসাইবিন) খাবার পর তীব্র হ্যালুসিনেশন ও বিভ্রমে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকদের বর্ণনা অনুযায়ী, এক পর্যায়ে তিনি ভোঁতা কুঠার দিয়ে নিজের লিঙ্গ কয়েক টুকরো করে কেটে ফেলেন। রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাশের রাস্তায় সাহায্যের খোঁজে এগোতে থাকেন। পথচারী একজন তাঁকে বিভ্রান্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে নিকটবর্তী শহরে নিয়ে যান এবং জরুরি পরিষেবায় খবর দেন।
হাসপাতালে পৌঁছেই তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা দ্রুত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে বরফ ও মাটিতে দূষিত হয়ে যাওয়া কিছু অংশ ফেলে দিতে হয়। সৌভাগ্যবশত, লিঙ্গের মাথা এবং প্রায় ২ সেন্টিমিটার দণ্ডাংশ অক্ষত ছিল। প্রায় ৯ ঘণ্টা রক্তপ্রবাহ বন্ধ থাকার পরও সেগুলি সফলভাবে পুনঃস্থাপন (রিপ্ল্যান্টেশন) করা হয়।
ঘটনার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে Mega Journal of Surgery-এ। সেখানে চিকিৎসকেরা লিখেছেন, “লিঙ্গের ব্যাপক ধ্বংস সত্ত্বেও উত্থান (ইরেকশন) ফিরে আসা উল্লেখযোগ্য সাফল্য।” অস্ত্রোপচারের প্রায় এক সপ্তাহ পর পুনর্গঠিত অঙ্গের অগ্রভাগে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তপ্রবাহের ঘাটতির কারণে ত্বকের কিছু অংশে নেক্রোসিস (টিস্যু-ক্ষয়) দেখা দেয়। দ্রুত চিকিৎসায় সেই জটিলতাও সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
&t=21sতবে শারীরিক সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক জটিলতা দীর্ঘায়িত হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীনও তিনি হ্যালুসিনেশন অনুভব করেন এবং একবার পালানোর চেষ্টাও করেন। তাঁকে মনোরোগ বিভাগে স্থানান্তর করা হয়; অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধে বিভ্রম নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। চিকিৎসকেরা পরে আবিষ্কার করেন, তিনি হাসপাতালেও চুপিসারে ম্যাজিক মাশরুম নিয়ে এসেছিলেন এবং শয্যার পাশে লুকিয়ে রেখেছিলেন—যা তাঁর চলমান হ্যালুসিনেশনের কারণ বলে সন্দেহ করা হয়।
ক্রমে তাঁর মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়। এক সপ্তাহ পর তাঁকে আবার ইউরোলজি বিভাগে ফিরিয়ে আনা হয়। লিঙ্গের আকার আগের তুলনায় অনেক ছোট হলেও তাঁর ইরেক্টাইল ফাংশন ফিরে আসে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করতে সক্ষম হন। সার্জনেরা চাইলে অপারেশন করলে দণ্ডাংশ তুলনামূলক দীর্ঘ দেখাতে পারে—এমন পরামর্শ দেন। তবে রোগী বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট বলে আর অস্ত্রোপচারে রাজি হননি।
চিকিৎসকেরা তাঁদের প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, “আমাদের জ্ঞানে সাইলোসাইবিন-প্ররোচিত লিঙ্গ-অ্যাম্পুটেশন এবং পরবর্তী ম্যাক্রোস্কোপিক রিপ্ল্যান্টেশনের এটি প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা।”
সাইলোসাইবিন—ম্যাজিক মাশরুমের সক্রিয় উপাদান—যুক্তরাজ্যে অবৈধ। বিনোদনমূলকভাবে খাবার পরে উচ্ছ্বাস বা হাসিখুশি ভাব তৈরি হলেও, বিশেষত যাঁদের আগে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি তীব্র সাইকোসিস বা বিভ্রমের পর্ব উসকে দিতে পারে। ওই ব্যক্তির আগে থেকে হতাশা (ডিপ্রেশন) এবং মদ্যপানের সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চিকিৎসাবিদ্যায় ‘মেডিক্যাল-গ্রেড’ সাইলোসাইবিন নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে হতাশা, উদ্বেগ ও PTSD-র চিকিৎসায় সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এই ঘটনা বিশেষজ্ঞদের মতে স্পষ্ট বার্তা দেয়—অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত সেবন প্রাণঘাতী ও বিকলাঙ্গতাজনিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
