আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে একাধিকবার হামলা করেছেন। আচমকা গুলিতে আহত প্রবীণ নেতা। লাহোরের রাস্তায় চলল ভয়াবহ গুলি। এ বার অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের নিশানায় লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা। আপাতত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন প্রবীণ জঙ্গি নেতা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, লাহোরে একটি টিভি চ্যানেলের অফিসের বাইরে হামজাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। এক বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁর ওপর হামলা হল। জানা গিয়েছে, এর আগে গত বছর মে মাসেও নিজের বাড়ির সামনেই গুলিতে আহত হয়েছিলেন তিনি। সে বার পাকিস্তানি প্রশাসন তড়িঘড়ি তাঁর নিরাপত্তা বাড়ায়৷ কিন্তু পুরো বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি বলে খবর৷
জানা গিয়েছে, পাক পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালায় জন্ম নেওয়া হামজা লস্কর প্রধান হাফিজ সইদের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী। আশির দশকে আফগান যুদ্ধে লড়াই করা এই হামজা সইদের সঙ্গেই মিলে লস্কর-ই-তৈবা তৈরি করেছিলেন। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর আইআইএসসি-তে যে ভয়াবহ জঙ্গি হানা হয়েছিল, তার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে দেখা হয় এই হামজাকেই। কাশ্মীরের বাইরে লস্করের প্রথম বড় হামলা ছিল সেটি।
মার্কিন প্রশাসনের চোখে হামজা একজন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আন্তর্জাতিক জঙ্গি। লস্করের প্রচার শাখার মূল মাথা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। সংগঠনের কাজে তাঁর তুখোড় বক্তৃতার কদর ছিল লস্কর শিবিরে। বেশ কিছু বই লেখার পাশাপাশি লস্করের সাপ্তাহিক মুখপত্রের সম্পাদকের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
২০১৮ সালে লস্করের শাখা সংগঠনগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে হামজা কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে ‘জৈশ-ই-মনকাফা’ নামে একটি পৃথক গোষ্ঠী গড়েন। তবে নাম বদলালেও লস্করের পুরনো আদর্শেই কাশ্মীর নিয়ে নাশকতামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। বর্তমানে লাহোরের এই হামলার নেপথ্যে কারা, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য।















