আজকাল ওযেবডেস্ক: পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার উপর নজর রাখছে ইজরায়েল। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ না হলে তারা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে আক্রমণ করবে না।
মার্কিন সংবাদ ওয়েবসাইট 'অ্যাক্সিওস' থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে। দুই ইজরায়েলি কর্তাকে উদ্ধৃত করে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইজরায়েল এই আশ্বাস দিয়েছে। যেখানে ইজরায়েলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী রন ডার্মার, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হানেগবি উপস্থিত ছিলেন।

একজন ইজরায়েলি কর্তা বলেছেন, "আমরা আমেরিকাকে বুঝিয়েছি যে, যদি একটি ভাল কূটনৈতিক সমাধান বেরিয়ে আসে, তাহলে আক্রমণ করার কোনও মানে নেই। অতএব, আমরা আলোচনা সম্পূর্ণরূপে শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব।"

অন্যদিকে, ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করছে। তারা অ্যামোনিয়াম পারক্লোরেট-সহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য চীন থেকে প্রচুর পরিমাণে উপকরণ আমদানি করেছে। এই উপকরণ দিয়ে ইরান ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। আগামী মাস থেকে এই উপকরণগুলি ইরানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে- এই উপকরণটি হংকংয়ের কোম্পানি ‘লায়ন কমোডিটিস হোল্ডিংস’ থেকে ইরানের একটি কোম্পানি পিশগামান তেজারাত রাফি নোভিন সংগ্রহ করছে। এই উপকরণের কিছু অংশ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিতেও পাঠানো হতে পারে। যেমন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যারা সম্প্রতি ইজরায়েলকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিশানা করেছে। 

এপ্রিল মাস থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সম্প্রতি ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছে যাতে তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করে। তবে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের হুতি, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং গাজায় হামাসের মতো সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিকে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করে আসছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইজরায়েল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে আক্রমণ করেছিল। এখন, ইরান এই কেন্দ্রগুলি মেরামত এবং তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে মনোনিবেশ করছে।