আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েলি নৌবাহিনী গাজা অভিমুখে যাত্রারত আন্তর্জাতিক সহায়তাবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একাধিক জাহাজ আটক করেছে। এর মধ্যে জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শান্তিকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফ্লোটিলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ইজরায়েলের নৌ-অবরোধ ভেঙে গাজায় জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই ডজন কর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনের জাহাজ গাজা অভিমুখে রওনা হয়েছিল। প্রথমে খবরে বলা হয়, ইজরায়েল ১৩টি জাহাজ আটক করেছে এবং বাকিগুলি যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সব জাহাজই অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
রয়টার্সের যাচাই সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, হেলমেট ও নাইট ভিশন ডিভাইস পরিহিত ইজরায়েলি সৈন্যরা জাহাজে প্রবেশ করছে, আর যাত্রীরা লাইফজ্যাকেট পরে হাত তুলে আত্মসমর্পণ করছেন।
এই দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই একটি জাহাজ—‘মিকেনো’—অবরোধ ভেঙে প্রথমবারের মতো প্যালেস্তাইনের জলসীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক। একে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইজরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছে: “হামাস-সুমুদ যাত্রীবাহী ইয়টগুলো নিরাপদে ইজরায়েলের দিকে আসছে। সেখানে তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। যাত্রীরা সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল ও পাকিস্তান ইজরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা করেছে। স্পেন মাদ্রিদে ইজরায়েলের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিকে তলব করেছে।
অন্যদিকে, আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইস্তানবুলের প্রধান কৌঁসুলি অফিস ইজরায়েলি নৌকমান্ডোদের হাতে তুর্কি নাগরিকদের আটক করার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
প্যালেস্তাইনের কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে “আন্তর্জাতিক আইন ও নীতি লঙ্ঘন” বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, এটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন, মানবিক নীতি এবং অংশগ্রহণকারীদের মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
প্যালেস্তাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়:“গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা একটি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য গাজা উপত্যকার অমানবিক ও অবৈধ অবরোধ ভাঙা। ইজরায়েলের ক্ষুধানীতি ও গণহত্যার অবসান ঘটানোই এর উদ্দেশ্য, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ন্যায্য।”
গত দুই বছর ধরে ইজরায়েল স্থল ও আকাশপথে গাজায় অব্যাহত সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। অবরোধের কারণে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা প্রবাহ কার্যত থমকে গেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা একে “মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
