আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্বাস—মোজতবা খামেনি সম্ভবত সমকামী। এই খবর শোনার পর ট্রাম্প এতটাই স্তম্ভিত হয়ে যান যে, তিনি নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেননি এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যেও এক ধরনের বিস্ময় ও কৌতুক মিশ্রিত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোয়েন্দা মূল্যায়নটি কোনও  সাধারণ গুজব নয়, বরং মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, মোজতবার সঙ্গে তার শৈশবের এক পুরুষ গৃহশিক্ষকের দীর্ঘ বহু বছরের শারীরিক ঘটিত সম্পর্ক ছিল। এমনকি সম্প্রতি ২৮শে ফেব্রুয়ারির এক মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর, যখন তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন তার পুরুষ পরিচর্যাকারীদের প্রতিও তিনি বেশ 'আক্রমণাত্মক' ও কামুক ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে গোয়েন্দা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও মার্কিন সংস্থাগুলোর কাছে এর কোনও  সরাসরি ছবি বা ভিডিও প্রমাণ নেই, তবুও তারা এই তথ্যকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছে।

এই খবরটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ ইরানি সমাজ ও রাজনীতিতে সমকামিতা শুধু একটি সামাজিক ট্যাবু নয়, বরং এটি একটি গুরুতর অপরাধ যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মোজতবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই এবং তার স্ত্রী ও এক সন্তান গত মাসের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর, মোজতবা যখন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী, তখন তার ব্যক্তিগত জীবনের এই গোপন দিকটি প্রকাশ পাওয়া আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও মোজতবা খামেনেইর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। ২০০৮ সালের একটি গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা, যা পরে উইকিলিকস প্রকাশ করেছিল, সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে মোজতবা তার শারীরিক অক্ষমতা বা যৌন সমস্যার চিকিৎসার জন্য লন্ডনের ওয়েলিংটন ও ক্রমওয়েল হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন। তখন বলা হয়েছিল যে চিকিৎসার পর তার সন্তান জন্ম নেয়। এখন নতুন করে এই সমকামিতার দাবি সামনে আসায় ইরানের কঠোর রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে এর কী প্রভাব পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।