আজকাল ওয়েবডেস্ক: নজিরবিহীন উত্তেজনায় কাঁপছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা প্রধান আলী লারি জানি ইজরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর তেহরান যে ‘ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তার প্রতিফলন হিসেবে এবার দুবাই এবং দোহার আকাশে আছড়ে পড়ল একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাশাপাশি ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করেও চালানো হয়েছে শক্তিশালী ড্রোন হামলা, যা এই অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর  (UAE) কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার ভোরেই দুবাইয়ের বাসিন্দাদের জরুরি মোবাইল অ্যালার্ট পাঠিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্তত তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে শহরটি। পরবর্তীতে আমিরশাহীর  সরকার নিশ্চিত করে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহাতেও জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক  জানায় যে তারা সফলভাবে আকাশপথে আসা আক্রমণ প্রতিহত করেছে।

এই উত্তেজনার মূল কারণ হলো গত মঙ্গলবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারি জানির মৃত্যু। গত মাসের প্রথম দিকে ইজরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই  নিহত হওয়ার পর লারি জানিই ছিলেন দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা যাকে হারাল তেহরান। লারি জানির হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইজরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের ঘোষণা দেয়। বুধবার সকালে তেল আবিবের কাছে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর মিলেছে।

এদিকে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদের অতি-সুরক্ষিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ড্রোনগুলো দূতাবাসের একেবারে কাছে আছড়ে পড়ছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো রুখতে মরিয়া চেষ্টা করছে। একটি ড্রোন নিকটবর্তী আল-রশিদ হোটেলের ওপর আছড়ে পড়ে আতঙ্ক তৈরি করলেও বড় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুরো ঘটনাপ্রবাহে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো (NATO) জোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অভিযানে ন্যাটো আমেরিকাকে সাহায্য না করে কঠিন সময়ে একা ফেলে চলে গিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ন্যাটোর সাহায্য ছাড়াই আমেরিকা তার স্বার্থ রক্ষায় যেকোনও  চরম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।