আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবার বড় পতন ইরানে? ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি ঘিরে এখন তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। খবর রটেছে, গত রাতের হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে। তবে লারিজানি আহত হয়েছেন নাকি নিহত- তা নিয়ে এখনও চরম ধোঁয়াশা।

ইজরায়েলের একটি প্রথম সারির সংবাদপত্রের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ইরানের প্রভাবশালী এই নেতার ঠিক কী ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইরান সরকারও এই বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব।

ইরানে লারিজানি অত্যন্ত দাপুটে নাম। এক সময়ের পরমাণু আলোচক ছিলেন। বর্তমানে সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে ধরা হয়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর। লারিজানি ছিলেন তাঁর অত্যন্ত ছায়াসঙ্গী। যদি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়, তবে খামেনেই-এর পর তিনিই হবেন ইরানের সবথেকে বড় নক্ষত্রপতন।

গত শুক্রবার কুদস দিবসের মিছিলে লারিজানিকে শেষবার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, ওই দিনই আমেরিকা লারিজানি-সহ ইরানের ১০ জন শীর্ষ সামরিক কর্তার হদিস পেতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। সূত্রের খবর, গত রাতের হামলায় বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানিও নিশানায় ছিলেন। যদিও বাসিজ প্রধানের মৃত্যু নিয়ে ইরান এখনও টুঁ শব্দটি করেনি।

টানটান এই উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ লারিজানির একটি কড়া বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিঁধে তিনি বলেছেন, "৪৭ বছর আগে বিপ্লবের সময় শাহ জমানার প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রাস্তায় মানুষের ভিড়ের আওয়াজ আসলে টেপ রেকর্ডারে বাজানো হচ্ছে। আর আজ ট্রাম্প বলছেন, ইরানের রাজপথে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত নাকি এআই দিয়ে তৈরি করা জাল ছবি!"

এর ঠিক আগের দিনই লারিজানি এক বার্তায় আক্ষেপ করে জানিয়েছিলেন, ইরান যখন ইজরায়েলি হামলার মুখে পড়েছিল, তখন মুসলিম দেশগুলির থেকে তেমন সাহায্য মেলেনি। তাঁর সাফ কথা, "আলোচনার আড়ালে আমেরিকা ও জায়নবাদীরা যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাতেই আমরা আমাদের মহান নেতা ও সেনাকর্তাদের হারিয়েছি। তবে লড়াই চলবে।"