আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার গভীর রাতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে আয়াতোল্লাহ মোজতাবা খামেনেইকে। তার পর পরই তেহরানেই মোজতাবার বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে ইরানি মহিলাদের ফার্সি ভাষায় বলতে শোনা যায়, "মোজতাবার মৃত্যু হোক।"

ভিডিওটি গবীর রাতে একটা বাড়ির জানালা থেকে তোলা হয়েছে। সেই ক্লিপেই ধর্মীয় স্লোগানও শোনা যাচ্ছে।

মোজতাবা খামেনেইকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইজরায়েলি ও আমেরিকান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন? এই নিয়ে নানা চর্চা চলছিল। এসেছে ট্রাম্পের তরফে হুঙ্কারও। এসবের মধ্যেই ৮৮ সদস্যের ইরানি বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্‌স) দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মধ্য-স্তরের ধর্মগুরু মোজতবাকে বেছে নেওয়ার ঘোষণা করে। 

তেহরানের স্থানীয় সময়ে মধ্যরাতের ঠিক পরে পরেই জারি করা এক বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞ পরিষদ জানিয়েছে, "একটি নির্ণায়ক ভোটের মাধ্যমে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ আয়াতোল্লা সাইদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেইকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পবিত্র ব্যবস্থার তৃতীয় নেতা হিসেবে নিযুক্ত করেছে।" 

মোজতবাই এখন থেকে ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন। দেশের যাবতীয় বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। 

১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর ৫৬ বছর বয়সী মোতাবাই হলেন সেদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা।

মোজতাবাকে কী মেনে নেবে ওয়াশিংটন। কারণ রবিবারই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঙ্কারের সুরে বলেছিলেন যে, ইরানে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের বক্তব্য থাকা উচিত। এবিসি নিউজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে, "যদি তিনি আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না।" সেই কথাকে পাত্তা না দিয়েই তেহরান মোজতাবাকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা মনোনিত করেছে। 

কিন্তু, এবার ঘরের অন্দরেই মোজতাবাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ইরানে মার্কিন-ইজরায়েল হানা
আমেরিকা ও ইজরায়েল, ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্য এশিয়ায় চরম সংকটে পরিস্থিতি। ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনেই এবং অন্যান্য শীর্ষ ইরানি নেতারা নিহত হন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায়, ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইরানে এখন পর্যন্ত ১,৩০০ জনেরও বেশি এবং ইজরায়েলে এক ডজনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধে কমপক্ষে সাতজন মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছে।

ট্রাম্প এবং ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, তাঁরা ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে কারণ ওই দেশ গোটা বিশ্বের কাছে বড়সড় বিপদ। ট্রাম্প বলেছেন, "আমরা যদি আগে ইরানে হামলা না করতাম, তাহলে ওরা ইজরায়েল আক্রমণ করত। সম্ভব হলে আমেরিকাকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করত।"