আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে চিন্তা বিশ্ব জুড়ে। এবার যুদ্ধের আঁচ ভারত মহাসাগরেও। আন্তর্জাতিক এবং সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে তথ্য, ইরানের একটি জাহাজের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা ঘটেছে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে। সাবমেরিন অর্থাৎ ডুবোজাহাজ থেকে হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে প্রাথমিকভাবে।
জানা গিয়েছে, এই জাহাজ-হামলার ঘটনায় নিখোঁজ শতাধিক। উদ্ধার করা হয়েছে ৩০-এর বেশি মানুষকে। ওই জাহাজটিতে অন্তত ১৮০জন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে প্রাথমিকভাবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী ডুবে যাওয়া ইরানি জাহাজে থাকা ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ৩২জনের মধ্যে, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, সাতজন জরুরি চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং অন্যরা সামান্য আহত হয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সংসদে জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী তথ্য পেয়েছে যে ১৮০ জন আরোহী নিয়ে আইআরআইএস ডেনা জাহাজটি মাঝপথে বিপদে পড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আমেরিকা–ইজরায়েল ও ইরান সংঘাত ক্রমশ এক ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এই সংঘাতে কৌশলের পাশাপাশি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে অর্থনীতি। বিশেষ করে অস্ত্রের খরচ অর্থনীতিকে ভয়াবহ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্র মজুত করতে গিয়ে সেই অঙ্ক আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে। ইরানের তৈরি শাহেদ–১৩৬ ড্রোন, যার আনুমানিক দাম মাত্র ২০ হাজার ডলার, তা মোকাবিলায় আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশরা ব্যবহার করছে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার দামের এমআইএম ১০৪ মিলিয়ন ক্ষেপণাস্ত্র। ফলে, যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে এই যুদ্ধকালীন অস্ত্র খরচের বিষয়টি।
গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে বিমান হামলার পর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। সোমবার পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, তেল সংশোধনাগার লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন আঘাত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি, মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ৯০ শতাংশেরও বেশি হারে এই হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এভাবে ব্যয়বহুল ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করে কতদিন প্রতিরক্ষা চালানো সম্ভব? সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকেই পরিষ্কার হয়েছে, কম খরচের অস্ত্র দিয়ে উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা যায়।
সংঘাতের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই উভয় পক্ষের মজুত থাকা অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কাতারের একটি অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান গতিতে ড্রোন ব্যবহৃত হলে চার দিনের মধ্যেই মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। যদিও কাতার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে তাদের মজুত থাকা অস্ত্রের পরিমাণ যথেষ্ট। লকহিড মার্টিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৬০০টি পিএসি–৩ ড্রোন তৈরি হয়েছে। অথচ গত কয়েক দিনে হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা।
অন্যদিকে, ইরানের হাতে গত বছরের ইজরায়েল সংঘাতের পর প্রায় ২ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে অনুমান। এছাড়া শাহেদ ড্রোনের মজুত আরও বেশি হতে পারে। রাশিয়া প্রতিদিন কয়েকশো ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ড্রোন উৎপাদনের গতি ধরে রাখা সম্ভব।
