আজকাল ওয়েবডেস্ক: তেহরান যুদ্ধবিরতি মানবে না, স্পষ্ট করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তেহরান চায় না "গত বছরের পরিস্থিতির" পুনরাবৃত্তি ঘটুক। ফলে মধ্য এশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা আরও জটিল হল বলেই আশঙ্কা।
কিয়োদো নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, "আমরা কোনও যুদ্ধবিরতি মেনে নেব না, কারণ আমরা চাই না গত বছরের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটুক।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পরপরই আরাঘচির এই বিবৃতি সামনে এসেছে। ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন যে, তিনি ইরানের সঙ্গে "কোনও যুদ্ধবিরতি করতে চান না।"
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "যখন আপনি প্রতিপক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন আপনি কোনও যুদ্ধবিরতি চাইবেন না।" আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লড়াইয়ে যেকোনও ধরনের বিরতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহায়তা না করার জন্য ট্রাম্প 'নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)'-এর মিত্রদেরও সমালোচনা করেন। তিনি তাদের "ভীরু" বলে তোপ দাগেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া এই জোটকে "কাগুজে বাঘ" বলে অভিহিত করেন।
ইরান যুদ্ধ বর্তমানে তার ২২তম দিনে পদার্পণ করেছে।
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরাঘচি বলেন, তেল সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি "শুধুমাত্র শত্রুপক্ষের জাহাজগুলোর জন্য বন্ধ রয়েছে"। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে গত ২ মার্চ ইরান এই প্রণালীটি বন্ধ করে দেয়।
এদিকে, ট্রাম্প মিত্রদের প্রতি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে "প্রচুর সহায়তার" প্রয়োজন এবং চীন ও জাপানের মতো দেশগুলো এতে যুক্ত হলে "খুবই ভাল হবে"। তিনি প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়াকে "একটি সাধারণ সামরিক কৌশল" হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, এই প্রণালীতে যাতায়াতকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করতে সামরিক জাহাজ ও বিপুল রসদের প্রয়োজন। ট্রাম্পের দাবি, সেই সহায়তা করার মতো "সাহস এখন পর্যন্ত ন্যাটোর হয়নি।"
তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই জলপথটির প্রতি আমেরিকার প্রত্যক্ষ গুরুত্বকে কিছুটা খাটো করে দেখানোরও চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ও এশীয় দেশগুলো যেভাবে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে, "আমরা (আমেরিকা) সেভাবে এটার ব্যবহার করি না"। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়ভার মূলত সেই দেশগুলোর ওপরই বেশি বর্তানো উচিত, যারা এর ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
