আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি যাতে আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায় সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে একাধিক দেশ। তবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে।

ইরান নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সহ একাধিক আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি নয়। এমনকী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলিও তাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্রের খবর, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে যে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না। ফলে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর যে প্রচেষ্টা চলছিল, তা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের তরফে আলোচনার আয়োজন করার প্রস্তাবও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক ডার আগেই জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ‘দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আয়োজন করতে পারলে সম্মানিত বোধ করবে’।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ভালভাবে এগোচ্ছে’, যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এর আগেও ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অংশ নেওয়ার দাবি খারিজ করে দেয়। মুম্বইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলের এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা চলছে না।

তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের তরফে যে প্রস্তাব এসেছে, তা ‘অবাস্তব এবং অযৌক্তিক’। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবও ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের 'বি-১' সেতুতে হামলার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন- "খুব দেরি হওয়ার আগেই" তেহরান যেন একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প একটি ভিডিও পোস্ট করেন।, সেখানেই দেখা যাচ্ছে ইরানের সবচেয়ে বড় সেতু 'বি-১'  হামলায় ধসে পড়ছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিমান হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজের সংযোগকারী একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই হামলায় দু'জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, দিনের শুরুতে এক বিমান হামলার পর সেতুটিতে দাউদাউ করে জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে।

ট্রাম্প বেশ আক্রমণাত্মক সুরেই হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরান যদি তাদের বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন না করে, তবে তাদের চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, "যে দেশের এখনও একটি মহান রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না!"