আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে 'আনুষ্ঠানিক' আলোচনার আগেই ইরানের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ জয়’ ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প একে 'বিশ্বশান্তির দিন' বলে অভিহিত করেছেন। আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের দাবি, যুদ্ধের সমস্ত লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। ইরানের সামরিক ক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া গিয়েছে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গলাতেও জয়ের সুর। তাঁর মতে, ইরান এখন আর তাঁদের অস্তিত্বের জন্য 'হুমকি' নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে আমেরিকা বা ইজরায়েল আদতে কী পেল?

যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল অস্পষ্ট। কখনও তিনি চেয়েছেন পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করতে, কখনও সামরিক শক্তি খর্ব করতে, আবার কখনও সরকার ফেলে দিতে। অথচ এই যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ। এমনকী এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। 

এই পথ দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলস্বরূপ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে হু হু করে। এখন যুদ্ধবিরতির পর সেই পথ খুললেও তার নিয়ন্ত্রণ থাকছে তেহরানের হাতেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে ইরান আগের চেয়েও সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের হুঙ্কার, ইরানের নৌবাহিনী এখন ‘সমুদ্রের তলায়’। তাদের বায়ুসেনা শেষ হয়ে গিয়েছে। আবার অনেকের মতে, ইরানের শক্তি কিছুটা কমলেও তারা ফুরিয়ে যায়নি। ইজরায়েল বা উপসাগরীয় দেশগুলোতে এখনও তারা পাল্টাহানা দিচ্ছে।

সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা পরমাণু অস্ত্র নিয়ে। মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আশঙ্কা, তাঁর মৃত্যুর পর ইরানের নতুন শাসকরা নিজেদের বাঁচাতে উত্তর কোরিয়ার মতো দ্রুত পরমাণু বোমা বানিয়ে ফেলতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প ইরানে ‘পুরো সরকার বদলে’ গিয়েছে বলে দাবি করলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, খামেনেইয়ের ছেলে এবং কট্টরপন্থীরাই এখন তেহরানের ক্ষমতায়। অর্থাৎ শাসকের মুখ বদলালেও ইরানের নীতি বদলায়নি।

ইসলামাবাদে যে আলোচনা শুরু হতে চলেছে, সেখানে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে বলে অনুমান। অন্যদিকে, আমেরিকা চাইছে গায়ের জোর দেখানোর পর এবার আলোচনার মাধ্যমে পরমাণু সমস্যার সমাধান করতে।