আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'কখন কী করব, জানতেই পারবে না কেউ'। বর্তমানে এই পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধের আবহে সে দেশে মার্কিন ফৌজ মোতায়েন করা হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার তিনি সাফ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের রণকৌশলের মূল মন্ত্রই হল- ‘অনিশ্চিত থাকা’।
প্রতিরক্ষা সচিবের এই বয়ানে আসলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরই সুর শোনা গিয়েছে। ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, ইরানে সেনা পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা এই মুহূর্তে তাঁর নেই। তবে যদি পাঠাতেও হয়, সেই অভিযানের কথা তিনি আগেভাগে কাউকে জানতে দেবেন না।
তেহরানে মার্কিন সেনার গতিবিধি নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে হেগসেথ জানান, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা। পাশাপাশি তাঁর হুঁশিয়ারি, যদি কোনও সম্মানজনক সমাধান না বেরোয়, তবে তেহরানে মার্কিন সেনার অভিযান- ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’- আরও চার থেকে আট সপ্তাহ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।
এ দিন হেগসেথ দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির আলোচনা ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছে। তবে তাঁর স্পষ্ট কথা, আমেরিকার শর্ত মেনেই এই যুদ্ধের ইতি টানা হবে। হেগসেথের কথায়, “আমরা এই সংঘাত মেটাতে চাই। কিন্তু তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবং আমাদেরই শর্তে হতে হবে।”
প্রসঙ্গত, যুদ্ধের এক মাস হল। এই একমাসব্যাপী ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে এবার কিছুটা সুর নরম করার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি না খুললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখতে চাইছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের পরিধি দীর্ঘ না করে দ্রুত ইতি টানাই এখন ট্রাম্পের লক্ষ্য।
প্রশাসনের একাংশের মতে, গায়ের জোরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মুক্ত করতে গেলে যুদ্ধ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যেতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই আপাতত ইরানের নৌসেনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে দুর্বল করে অভিযান গুটিয়ে নিতে চায় ওয়াশিংটন। এরপর জলপথটি খোলার জন্য তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরি করবে আমেরিকা। তাতে কাজ না হলে ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সামনে রেখে এগোতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
যদিও গত এক মাসে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বারবার অবস্থান বদলেছেন ট্রাম্প। কখনও তিনি হুমকি দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জলপথ না খুললে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় বোমাবর্ষণ করা হবে। আবার কখনও দাবি করেছেন, এই জলপথ বন্ধ থাকা আমেরিকার সমস্যা নয়, বরং অন্য দেশগুলোর সমস্যা।














