আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সংঘাত থামছে না। কাতারে আমেরিকার শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা এফপিএস ১৩২–কে ধ্বংস করার পর এবার জর্ডনে আরও শক্তিশালী ‘থাড’ (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) রাডার ব্যবস্থাকেও গুঁড়িয়ে দিল ইরান। ৩০ কোটি ডলার খরচ করে নির্মিত এই রাডার ব্যবস্থা জর্ডনের মুয়াফফক সাল্টি সেনাঘাঁটিতে মোতায়েন করেছিল আমেরিকা। অত্যাধুনিক এই রাডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।


জর্ডনে আমেরিকার এই সেনাঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালায় ইরান। রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি। শুধু তা–ই নয়, জর্ডন ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রাডার ব্যবস্থাকে নিশানা করেছে ইরান। জর্ডনের মার্কিন সেনাঘাঁটি ইরান থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে। আর এই সেনাঘাঁটি পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যতম বড় সেনাঘাঁটিগুলির মধ্যে একটি। যদিও আমেরিকার তরফে এই কথা প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্রে রাডার ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়।


প্রসঙ্গত, এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল বায়ুমণ্ডলের উপর থেকে মহাকাশ ছুঁয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখে দেওয়ার জন্য। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ–এর তথ্য বলছে, আমেরিকার কাছে এরকম মোট আটটি ‘থাড’ রাডার ব্যবস্থা রয়েছে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত উন্নতমানের রাডার আছে যেটি ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র বা হামলাকারী ড্রোনের হদিশ পেয়ে যায়। লকহিড মার্টিন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্মাতা। দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজরায়েল, জর্ডন এবং সৌদি আরবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। তার মধ্যে জর্ডনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতেই জর্ডনে এই রাডার ব্যবস্থাকে মোতায়েন করেছিল আমেরিকা।


এটা ঘটনা, দিন কয়েক আগেই কাতারে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ইরান। এই রাডারটি কাতারের আল উদেইদে মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে ছিল। ২০১৩ সালে এই সেনাঘাঁটিতে রাডার ব্যবস্থাটিকে বসানো হয়েছিল।