আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'ডেডলাইন' ফুরিয়ে আসছে একটু পরেই৷ আমেরিকার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করল ইরান। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই আলোচনার সব পথ বন্ধ করে দিল ইরান।
মঙ্গলবার ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘তেহরান টাইমস’ জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক এবং পরোক্ষ যোগাযোগ ছিন্ন করেছে তেহরান।
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘‘আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি বা ঘুরপথে আর কোনও কথা বলবে না ইরান। সব ধরনের বার্তা আদানপ্রদানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই চরম সিদ্ধান্ত নিল তেহরান। এরই মধ্যে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বেনজির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, আজ রাত বিশ্ব ইতিহাসের এক ‘সন্ধিক্ষণ’ হতে চলেছে।
ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে, যার আর কখনও ঠিক হবে না। আমি এমনটা চাই না, কিন্তু সম্ভবত এটাই হতে চলেছে।’’ তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের দীর্ঘ ৪৭ বছরের ‘অরাজকতা ও দুর্নীতির’ ইতি ঘটবে আজ রাতেই।
আজ রাতই কি তবে বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরে যাবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে অন্তত সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, আজ রাত বিশ্ব ইতিহাসে অন্যতম এক 'গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত' হতে চলেছে।
সংঘাতের মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। ট্রাম্প সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেহরান যদি ওই জলপথ খুলে না দেয়, তবে ইরান গুঁড়িয়ে দেবে আমেরিকা।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য কোনও পরিকাঠামোয় আঘাত করা আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী। কিন্তু ইরানও দমবার পাত্র নয়। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, তারা যুদ্ধের পাকাপাকি অবসান চায়। মার্কিন প্রশাসনের অন্দরমহলেও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ট্রাম্পের চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ভয়াবহ বিপর্যয় ইরানে। মঙ্গলবার দুপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের খার্গ দ্বীপ। পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এদিন দফায় দফায় বিস্ফোরণে দ্বীপের একাংশ কার্যত ধ্বংসের চেহারা নেয়। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ঘটনা ঘটল।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক শীর্ষ কর্তাকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, খার্গ দ্বীপে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে মার্কিন ফৌজ।
প্রসঙ্গত, এই দ্বীপটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্প আগেই দিয়েছিলেন। গত ৩০ মার্চ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছ আর খার্গ দ্বীপ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েই আমরা আমাদের অভিযান শেষ করব।" এই ঘটনা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। ট্রাম্পের সাফ হুঁশিয়ারি- আজ যদি ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে তিনি ‘নরক যন্ত্রণা’ দেবেন।
(বর্তমান যুগে খুব দ্রুত মানুষের কাছে খবর পৌঁছে যায়। কিন্তু এই দ্রুততার কারণে অনেক সময় সঠিক খবর পৌঁছনো যায় না। দ্রুত খবর পৌঁছতে গিয়ে অনেক সময় ভুল খবর বিভিন্ন গোষ্ঠী বা মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। আমরা চাই না দ্রুততার কারণে আপনার কাছে ভুল খবর পৌঁছক। তাই সময় নিয়ে সঠিক খবর পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তাই নির্ভরযোগ্য খবরের মাধ্যম হিসেবে নজর রাখুন আজকাল ডট ইনে। এই খবরটি দ্রুত আপডেট করা হবে।)















