আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়াতে উত্তেজনা চরমে, আর তার মধ্যেই নতুন করে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্প্রতি তাঁর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আজ রাতেই পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যেতে পারে,” যদি ইরান কোনও চুক্তিতে না পৌঁছায়। এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দ্রুত বেড়ে যায়।
এই হুমকির ঠিক আগে মার্কিন সেনা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা অনেকেই চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স আরও বিতর্ক উসকে দেন। তিনি বলেন, ইরান যদি “সঠিক সিদ্ধান্ত” না নেয়, তাহলে আমেরিকা এমন কিছু “উপায়” ব্যবহার করতে পারে, যা আগে কখনও ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর এই বক্তব্য থেকেই জল্পনা শুরু হয়—তাহলে কি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি?
বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, “এক রাতেই একটি দেশকে ধ্বংস করার ক্ষমতা” কেবলমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রের মাধ্যমেই সম্ভব। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন কি সেই পথেই হাঁটতে চলেছে—এই প্রশ্ন উঠে যায়।
তবে এই বিতর্কের মাঝেই হস্তক্ষেপ করে হোয়াইট হাউস। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে কোনওভাবেই পারমাণবিক হামলার ইঙ্গিত ছিল না। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হয়, এই ধরনের ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।
তবুও উদ্বেগ কমেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বর্তমান ও প্রাক্তন উপদেষ্টাদের মধ্যেই আশঙ্কা বাড়ছে যে, প্রেসিডেন্ট হয়তো পারমাণবিক হামলার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মার্কিন ব্যবস্থায় পারমাণবিক হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকে। প্রয়োজনে তিনি সরাসরি সামরিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ ব্রিফকেস, যা “নিউক্লিয়ার ফুটবল” নামে পরিচিত, ব্যবহার করা হয়। এতে থাকে বিভিন্ন আক্রমণ পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় কোড।
তবে এই ক্ষমতার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যদি সামরিক চেইনের কেউ মনে করেন যে নির্দেশটি আইনবিরোধী, তাহলে তা কার্যকর করতে অস্বীকার করা যেতে পারে। যদিও বাস্তবে এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
&t=546s
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা এখন নির্ভর করছে ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর। বিশ্বের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকেই।















