আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা ধরনের বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সামনে আসছে। বিশেষ করে ইজরায়েল ও ইরানের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কিছু বক্তব্য তীব্র বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। এমনই একটি আলোচিত মন্তব্য করেছেন ইজ়রায়েলি সাংবাদিক ও শান্তি আন্দোলনের কর্মী Alon Mizrahi। তাঁর বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মিজরাহির দাবি, চলমান সংঘাতে ইরান এমনভাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানছে যা অনেকের ধারণার বাইরে। তাঁর মতে, কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান আঞ্চলিক সামরিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলি—যেমন বাহরাইন, কুয়েত, কাতার  এবং সৌদি আরব—বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং ব্যয়বহুল সামরিক স্থাপনাগুলির মধ্যে অন্যতম। কয়েক দশক ধরে বিপুল অর্থ ব্যয়ে তৈরি এই পরিকাঠামোর কিছু অংশ নাকি সাম্প্রতিক হামলায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মিজরাহির বক্তব্য অনুযায়ী, শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি রাডার ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। তাঁর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে পুরো সামরিক ঘাঁটি খালি করে দেওয়া হয়েছে বা আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে বিরল বলে উল্লেখ করেছেন এবং তুলনা টেনেছেন Pearl Harbor attack-এর মতো ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে।

তাঁর অভিযোগ, এই সংঘাতের প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে পুরোপুরি আসছে না। পশ্চিমী  গণমাধ্যমে যুদ্ধের তথ্য আগের মতো প্রকাশ পাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ১৯৯১ সালের Gulf War-এর সময় যেমন প্রতিদিন টেলিভিশনে যুদ্ধের দৃশ্য দেখানো হত, এখন তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে আসলে কী ঘটছে তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

মিজরাহির বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—ইরানের সামরিক প্রস্তুতি। তাঁর মতে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সম্ভাব্য সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো তৈরি করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং অস্ত্র ভান্ডার তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ধারণা, এই ধরনের পরিকাঠামো ধ্বংস করা সহজ নয় এবং সেই কারণেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা এত দ্রুত ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, ইরানের ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও প্রতিরক্ষা কাঠামো এমন যে সরাসরি স্থল আক্রমণ চালানোও অত্যন্ত কঠিন। তাঁর মতে, বাইরের কোনও শক্তির পক্ষে বড় আকারে সেনা পাঠিয়ে ইরান দখল করা বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে পারস্য উপসাগর ও Strait of Hormuz অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নানা ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি সামনে আসে, যার অনেকটাই যাচাই করা কঠিন। আধুনিক সংঘাতে তথ্যযুদ্ধ, প্রচার এবং সীমিত তথ্য প্রকাশ—সবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কোনও পক্ষের বক্তব্যকে সরাসরি চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার আগে স্বাধীন সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে এবং এই সংঘাত আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে আরও বড় ভূরাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও খোঁজা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে আলোন মিজরাহির বক্তব্য অনেকের কাছে এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের বাস্তবতা অনেক সময় বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, আসলে তা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তাই এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।