আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান প্রশাসনের আরও শীর্ষ আধিকারিক আলিরেজা টাংসিরি নিহত হয়েছেন ইজরায়েলি হামলায়। এমনই দাবি সামনে এসেছে ইরানের দক্ষিণ প্রদেশে একটি হামলার ঘটনায়।
এমনটাই দাবি করেছেন, এক ইজরায়েল কর্মকর্তা। ইতিমধ্যেই এই সংঘাত চতু্র্থ সপ্তাগে গড়িয়েছে। গোটা বিশ্বে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। জানা গেছে, ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের নৌ শাখার প্রধান ছিলেন টাংসিরি।
তাঁকে ইরানের বন্দর নগরী হিসেবে পরিচিত বন্দর আব্বাসে এক হামলায় হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে ছিলেন কমোডর টাংসিরি।
এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তবে এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি, ইজরায়েলের সেনাবাহিনীও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই মৃত্যুর খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য এই ঘটনা বড় ধাক্কা।
বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরে তাদের নৌবাহিনীর কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। টাংসিরি বহুদিন ধরেই ইরানের নৌবাহিনী সামলাচ্ছেন। দক্ষিণ ইরানের বুশেহার প্রদেশে জন্মগ্রহণ তাঁর।
ইরান-ইরাকের যুদ্ধ চলাকালীন এবং ১৯৮০-এর দশকে তথাকথিত ‘ট্যাঙ্কার যুদ্ধ’-এর সময় তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ধাপে ধাপে প্রমোশন পেয়ে তিনি আইআরজিসি নৌবাহিনীর নেতৃত্বে আসেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে একাধিক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
মধ্য এশিয়ায় সংঘাত আরও বাড়লে 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরান সতর্ক করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যদি ইরানের দ্বীপ - বিশেষ করে খার্গ দ্বীপে হামলা চালায়, তাহলে যুদ্ধের অন্য পথ খোলা হবে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, ইরান এখন তার নজর সরিয়ে 'বাব আল-মানদেব'-এর' দিকে দিয়েছে।
'বাব আল-মান্দেব' প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল, যা সুয়েজ খালের দিকে জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'বাব আল-মানদেব' প্রণালী লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার এবং বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ১২ শতাংশ এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। যদি এই প্রণালীটিও অচল হয়ে পড়ে, তবে বিশ্ব জ্বালানি বাজার আরও একটি বড় ধাক্কার সম্মুখীন হবে।
ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন আধিকারিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, "যদি শত্রু ইরানের কোনও দ্বীপে কিংবা আমাদের ভূখণ্ডের অন্য কোথাও স্থলপথে কোনও সামরিক পদক্ষেপ করতে চায়, অথবা ইরানকে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, তবে আমরা তাদের জন্য এমন সব নতুন রণাঙ্গন খুলে দেব যা তাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত । এর ফলে তাদের সেই সামরিক পদক্ষেপ থেকে তারা তো কোনও সুফল পাবেই না, বরং তাদের নিজেদেরই ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।"















