আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ফের হামলার ঘটনায় কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল ভারত। মাত্র চার দিনের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের জড়িত তৃতীয় হামলার ঘটনার পর শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকস-কে তলব করেছে বিদেশ মন্ত্রক। হামলার শিকার এই জাহাজটিতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।


বিদেশ মন্ত্রকের আমেরিকা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মার্কিন কূটনীতিককে ডেকে পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগের কথা জানান। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নয়াদিল্লি আরও সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে।


এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং একটি নতুন সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরামর্শ জারি করে। এই নির্দেশিকায় প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিককে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং সংলগ্ন জলসীমায় কর্মরত বা যাতায়াতকারী ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ওমান উপকূলের কাছে একটি ভয়াবহ হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে, যা ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। 


পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথেও পড়ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই এলাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শুধু জাহাজ চলাচলই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নাবিক সরবরাহকারী দেশ। হাজার হাজার ভারতীয় নাবিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত থাকায় এই ধরনের হামলা ভারতের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। সেই কারণেই পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্র সরকার নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে আরও কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 


ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং-এর পরামর্শ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলিকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করতে, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।
চার দিনের মধ্যে পরপর তিনটি হামলার ঘটনায় স্পষ্ট যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ভারত সরকার একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে।