আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুদিন ফিরছে পাকিস্তানের। ইসলামাবাদের পক্ষে হতে চলেছে বিশ্ব মেরুকরণ। চাঞ্চল্যকর এই দাবি করেছে, লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) কমান্ডার জঙ্গি হাফিজ আবদুর রউফ। এই জঙ্গি নেতাই অপরেশন সিঁদুরের ফলে নিহত পাক সেনার শেষকৃত্যে নমাজের নেতৃত্বে ছিলেন। হাফিজ আবদুর রউফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনোনীত সন্ত্রাসবাদী এবং লস্কর-ই-তৈবা-র প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীও। রউফ দাবি করেছেন যে, তুরস্ক এবং বাংলাদেশ এখন ইসলামাবাদকে সমর্থন করছে।
রউফ বলেন, "গতকাল পর্যন্ত আমরা একা ছিলাম এবং পুরো বিশ্ব ভারতের সঙ্গে ছিল। আজ পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। তুরস্ক পাকিস্তানের সঙ্গে আছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও ইসলামাবাদের পক্ষে। এখন পুরো বিশ্ব পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে।" তিনি আরও বলেন যে, "মুজাহিদদের একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যেখানে পাকিস্তান জয়ী হচ্ছে।
২০২৫ সালের মে মাসে অপরেশন সিঁদুরের জেরে বহু পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি-সহ সেদেশের সেনা নিহত হয়েছিল। তারপরই ঘটা করে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই শেষকৃত্যে নমাজের নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল হাফিজ আবদুর রউফ-কে। যা নিয়ে হইচই পড়েছিল। কিন্তু পাক সেনা সেই সময়ে এই হাপিজ সাইদ ঘনিষ্ঠ লস্কর নেতাকে জঙ্গি বলে মেনে নেয়নি। বদলে তাকে একজন "ধর্মীয় নেতা" ও "সংসারী ব্যক্তি" হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
প্রকাশিত নয়া ভিডিও-তে এই সন্ত্রাসবাদী আরও দাবি করেছে যে, ভারত “উচিত শিক্ষা পেয়েছে এবং আগামী ৫০ বছরে পাকিস্তানের ওপর হামলা করার সাহস করবে না।”
একটি উস্কানিমূলক বিবৃতিতে পাকিস্তান-ভিত্তিক এই সন্ত্রাসবাদী বলেছে যে, ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে বাহাওয়ালপুর এবং মুরিদকের ঘটনাগুলো শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু অভিযোগ করেছে যে পাকিস্তান ১০ মে “আল্লার সাহায্যে” একটি সিদ্ধান্তমূলক জবাব দিয়েছে, যার ফলে ভারত এখন পাকিস্তানের দিকে “তাকাতেও” পারছে না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই বিবৃতিগুলো সম্ভবত ধিমিয়ে পড়া লস্করের প্রচার এবং জহ্গিদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এই উস্কানিমূলক বক্তব্য সেই একই সন্ত্রাসবাদী কমান্ডারের কাছ থেকে এসেছে, যাকে অপারেশন সিন্দুরের পরপরই ভীত ও বিচলিত দেখা গিয়েছিল।
পাকিস্তানর মদতপুষ্ট এই সন্ত্রাসবাদীকে প্রায় এক মাস পর একটি ভিডিওতে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দিতে দেখা গিয়েছিল। যেখানে সে প্রকাশ্যে ভারতের ওপর হামলার আহ্বান জানিয়েছিল। যার মধ্যে একটি উস্কানিমূলক হুমকি ছিল যে “দিল্লিকে কনে সাজানো হবে।”
জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ কমে গিয়েছে, ভিডিওতে রউফ এই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে এবং আক্রমণাত্মক ভাষায় দাবি করেছে যে- সংঘাত আরও তীব্র হবে। সে দাবি করেছে যে, কাশ্মীর “যুদ্ধ” শেষ হতে অনেক বাকি এবং যারা অন্যকিছু বিশ্বাস করছে তারা ভুল করছে বলে সতর্ক করেছে। এই বয়ান আসলে ইপত্যকায় ক্রমাগত হিংসার জন্য চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
