আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার কোনও লক্ষ্ণণ নেই। জানা গিয়েছে, কাতারের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। 


প্রসঙ্গত, কাতারের এই রাস লাফরান শিল্পতালুকে থাকা ঘাঁটি থেকেই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করা হয়। ইরানের হামলায় ওই ঘাঁটি ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায় ওই ঘাঁটিতে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও পরিস্থিতি বুঝতে বিশেষ দল নিযুক্ত করেছে কাতার। অবশ্য হতাহতের কোনও খবর নেই।


ইরানের এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে কাতার। সে দেশের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিক, গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর জায়গার উপর হামলা চালিয়ে সমস্ত ধরনের সীমারেখা পেরিয়ে গিয়েছে ইরান। কাতারের তরফে জানানো হয়েছে এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে ইরান নাকি পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তার মধ্যে চারটিকে প্রতিহত করা গিয়েছিল। একটি আছড়ে পড়ে গ্যাসের ঘাঁটিতে।


এই হামলার পর হুমকি ইরানকে হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‌ফের ওই ঘাঁটিতে হামলা চালালে আমেরিকা ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ করবে।’‌ তবে পাশাপাশি ট্রাম্প এটাও জানিয়েছেন, বুধবার ইরানের বৃহত্তম গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্র সাউথ পার্সে ইজরায়েলের হামলা চালানোর বিষয়ে আমেরিকা নাকি কিছুই জানত না। এমনটাই দাবি করেছেন ট্রাম্প। এই সামরিক অভিযানে আমেরিকা বা কাতারের কোনও হাত নেই বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাগের বশেই এই কাজ করেছে ইজরায়েল। কিন্তু ইরান পাল্টা প্রত্যাঘাত করায় রাগে ফুঁসছেন ট্রাম্প।


এদিকে, ওই হামলার পর ইরানপাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছিল, এবার পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল এবং গ্যাস উত্তোলনকেন্দ্রগুলিকে নিশানা করে হামলা চালাবে তারা। তারপরেই কাতারের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালাল ইরান। এদিকে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা চালানোর উদ্দেশ্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট বাড়ানো।