আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক হামলা চালানোর পর ইরানের আকাশসীমা দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, হামলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলো ইরানের আকাশপথ এড়িয়ে বিকল্প রুটে সরে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখায়, ইরানের আকাশপথ হঠাৎ করেই প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে, আর প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরের করিডোরগুলোতে বাড়তে থাকে বিমান চলাচলের চাপ।
ইরান কর্তৃপক্ষ দ্রুত আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করলে আন্তর্জাতিক রুটের বহু ফ্লাইট বাধ্য হয়ে ঘুরপথে যেতে শুরু করে। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ইরানের আকাশ প্রায় খালি, কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপর দিয়ে একের পর এক উড়োজাহাজ বিকল্প পথে অতিক্রম করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিলম্ব ও ব্যয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
হামলার ফলে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় রাজধানী তেহরানে। শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে নগরী। আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী হামলার ইঙ্গিত দেয়। এমনিতেই তেহরান, জেরুজালেম ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র ছিল; এই হামলা সেই উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
ইজরায়েলের কর্মকর্তারা একে প্রি-এম্পটিভ হামলা বলে উল্লেখ করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, তেহরান থেকে হামলা নিষ্ক্রিয় করাই ছিল অভিযানের লক্ষ্য, এবং এটি মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষমতা রোধ করাই ছিল অভিযানের উদ্দেশ্য।
হামলার পর ইজরায়েলে সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সাইরেন বাজানো হয় এবং নাগরিকদের সুরক্ষিত স্থানের কাছাকাছি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা—পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে উভয় পক্ষের বেসামরিক জনগণ ও কাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, আর বিস্তৃত সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হামলার পর দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেন। তার কথায়, অস্ত্র নামালে ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ দেওয়া হবে, অন্যথায় ‘নিশ্চিত পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। এই বক্তব্য উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
