আজকাল ওয়েবডেস্ক: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC), আরব রাষ্ট্রপুঞ্জ (LAS) এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC)-এর সচিবালয়ের পাশাপাশি চৌদ্দটি আরব ও ইসলামী দেশ ইjরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ভূ-রাজনীতিতেও হাকাবির মন্তব্যে তোলপাড়।
কী বলেছেন মাইক হাকাবি? অতিসম্প্রতি ইজরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদুত মাইক হাকাবি একটি মন্তব্য করেছেন ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের সঙ্গে কথা বলার সময়। সেখানেই হাকাবি একটি মন্তব্য করেন, যার অর্থ, পশ্চিম এশিয়াজুড়ে আধিপত্য বিস্তারের অধিকার রয়েছে ইজরায়েলের।
নেতানিয়াহুর সেনা পশ্চিম এশিয়া দখল করলে, আমেরিকার সমর্থন রয়েছে তাতে, হাকাবির মন্তব্যে এমন ইঙ্গিতও মেলে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, টাকার কার্লসন আলাপচারিতার সময় হাকাবির সামনে একটি প্রশ্ন রাখেন। জিজ্ঞাসা করেন, ইরাকের ফেরাত নদী থেকে মিশরের নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমির ধারণা সম্পর্কে এবং আধুনিক ইজরায়েল রাষ্ট্র কি সেই নির্দিষ্ট অংশ দাবি করতে পারে কিনা তা নিয়ে।
এই প্রশ্নের জবাবেই হাকাবি বলে বলেন, 'ওরা যদি সব দখল করে নিত, ভালই হত।' যদিও কার্লসন পরক্ষণেই জিজ্ঞাসা করেন, ইজরায়েল এই ধরনের কিছু ভাবছেন কি না। উত্তরে হাকাবি জানান, এই ধরনের কোনও ভাবনা আপাতত নেই ইজরায়েলের।
কিন্তু তাঁর মন্তব্যে রীতিমতো শোরগোল ভূ-রাজনীতিতে। শনিবার রাতে দোহা থেকে জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে কাতার, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, লেবানন, সিরিয়া এবং প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে বিপজ্জনক মন্তব্য বলে অভিহিত করেছে।
মন্তব্যের প্রেক্ষিতে একদিকে যেমন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে মন্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং কড়া সমালোচনাও করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, প্যালেস্টাইন কিংবা কোনও অধিকৃত আরব ভূমির উপর ইজরায়েলের কোনও সার্বভৌমত্ব নেই। হাকাবির এই মন্তব্যকে 'আন্তর্জাতিক আইনের নীতি এবং জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন' বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এই মন্তব্য পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা এবং স্থিতীশীলতার উপর বড় হুমকি বলেও দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে। মন্ত্রণালয়গুলি বিবৃতিতে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করেছে। যার অর্থ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থাপিত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গে গাজা সংঘাতের অবসানের জন্য মার্কিন পরিকল্পনার সঙ্গে হাকাবির বক্তব্যের অবস্থান একেবারে পৃথক।
















