আজকাল ওয়েবডেস্ক: একজন বিখ্যাত কুয়েতি গায়িকা নূরা। সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ইন্টারনেটে পুনরায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে যে তিনি একবার এমন একটি বিয়েতে গান গেয়েছিলেন যেখানে কোনও অতিথিই সাধারণ মানুষ ছিল না। এই ঘটনা নিয়ে ইনস্টাগ্রামে বিস্তারিত পোস্ট করা হয়। পোস্ট করা ওই ভিডিওতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। পাশপাশি তিনি বলেন, সেই রাত এতটাই ভয়ংকর ছিল যে এর পর নূরা আর কখনও গান'ই গাননি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে। সেই সময় নূরা কুয়েতের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিয়ের পারফর্মারদের মধ্যে একজন ছিলেন। ঘটনার দিন রাতেও তিনি একটি অজানা শহরের বাইরে এক প্রাসাদে পারফর্ম করতে যান। অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। সেই মুহূর্তে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, পরে তা ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক ভৌতিক অভিজ্ঞতায়। উল্লেখিত অনুষ্ঠানে রাত ১০:৩০টার দিকে অতিথিরা আসতে শুরু করেন- কিন্তু তাঁদের আসা যেন কখনও থামছিল না। একটা পর্যায় পর তাঁদের প্রত্যেকের আচরণ অস্বাভাবিক হতে থাকে। খবর মারফত জানা গিয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকে নাচ করছিলেন, কিন্তু তাঁদের নড়াচড়া অস্বাভাবিক বিকৃত ছিল। ঠিক যেন সম্মোহনী ও মানবিকতা-বর্জিত। এমনকী কেউ কেউ যখন নূরার কাছে আসেন, তখন নূরা টের পান তাঁদের প্রত্যেকের শরীর পাথরের মতো শক্ত, তপ্ত এবং অস্বাভাবিক।

এই ঘটনায় নূরার গোটা ব্যান্ড মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এহেন পরিস্থিতিতে নূরা উত্তেজিত হওয়ার বদলে নিজেকে সংবরণ করেন। তিনি চোখের ইশারায় ব্যান্ডের অন্য মিউজিশিয়ানদের জানান যে গান বন্ধ করলে ভয়ানক কিছু ঘটতে পারে। এরপর মধ্যরাতে অতিথিদের শরীর হঠাৎ করে বদলাতে শুরু করে। তাঁদের পা পশুর মতো উল্টোদিকে বেঁকে যায়, হাত লম্বা হয়ে যায় এবং মুখ বিকৃত হয়ে এক পাশে সরে যায়।

আরও পড়ুনঃ নেই ইন্টারনেট, প্রয়োজনেও যোগাযোগ করতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী! ওমর আব্দুল্লাহ বললেন, 'দশ বছরে এমন বিপর্যয়ের

এরপর রাত আরও গভীর হতে থাকলে, আনুমানিক ৩ টের দিকে হঠাৎ করে অনুষ্ঠানের সমস্ত আলো নিভে যায়। জানা যায়, ঠিক সেই সময় গ্রীষ্মের রাতে তীব্র গরমেও চারিপাশ হঠাৎ শীতল হয়ে ওঠে। তখন নূরা বুঝতে পারেন, তিনি আসলে এক জিনের বিয়েতে গান করছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ও তাঁর ব্যান্ড কোনও রকমে বিয়েবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই তাঁদের সব যন্ত্রপাতি ও জিনিসপত্র ফেলে যান। পরদিন তাঁরা জানতে পারেন, যেই বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁরা গিয়েছিলেন, সেই প্রাসাদটি গত ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত।

খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার পর নূরা গানের জগৎ থেকে পুরোপুরি সরে যান। ভিডিওটি পুনরায় ভাইরাল হওয়ার পর ইন্টারনেটে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ ঘটনার জেরে বলেছেন, 'পাকিস্তানে তো প্রতি দুটো বাড়িতে জিন থাকে, এটা আমাদের কাছে স্বাভাবিক।' আবার কেউ বলেছেন, 'এই ঘটনা আমার শরীর শীতল করে দিয়েছে।' তবে অনেকেই এই গল্পকে অবিশ্বাস্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একজন মন্তব্য করে বলেছেন, 'আমি এই গল্প একটুও বিশ্বাস করি না।' আরেকজন লিখেছেন, 'তুমি অনেক বেশি রসিকতা করো।' এহেন ঘটনার জেরে সম্প্রতি নেটপাড়া দুভাগে বিভক্ত- কেউ ঘটনা বিশ্বাস করছেন, কেউ করছেন না।

আরও পড়ুনঃ দিল্লির রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলির লড়াই! নামকরা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দুই শ্যুটার গ্রেপ্তার