আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশভাগের পরও কোনও হিন্দু পাকিস্তানিদের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছেন এমন ব্যক্তিত্বের সংখ্যা খুবই কম, তাঁদের মধ্যে একজন হলেন স্যার গঙ্গা রাম। তিনি ছিলেন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং সমাজসেবী। ১৯২১ সালে লাহোর হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন স্যার গঙ্গা রাম। সেই হাসপাতালে আজও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন।
স্যার গঙ্গা রাম ছিলেন সেইসব ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, যাঁরা লাহোরের মুকুটে নয়া পালক যুক্ত করেছেন। লাহোরের স্থাপত্য আজও নজরকাড়া।
স্যার গঙ্গা রাম ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়র এবং একজন প্রতিশ্রুবাণ কৃষিবিদ। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি বিভিন্ন বিখ্যাত স্থাপত্য নকশা এবং নির্মাণে উৎসর্গ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, স্যার গঙ্গা রাম লাহোরের অন্যতম অভিজাত এলাকা মডেল টাউনও নির্মাণ করেছিলেন। ভবন নির্মাণের পাশাপাশি, তিনি লাহোরে নতুন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন, পাঠানকোট এবং অমৃতসরের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ করেছিলেন। এই সময়কালকে 'স্থাপত্যের গঙ্গা রাম যুগ' বলা হয়।
গঙ্গা রাম হাসপাতালের বিবরণ
স্যার গঙ্গা রাম মানুষের জীবনে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে চেয়েছিলেন। তিনি সমাজ নিয়ে চিন্তা করতেন। মানুষকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। তিনি ১৯২৩ সালে গঙ্গা রাম ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন, যা গঙ্গা রাম চ্যারিটেবল হাসপাতালের ভিত্তি স্থাপন করে। পরবর্তীতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতাল পরবর্তীতে দিল্লিতে তৈরি হয়, যা লাহোর হাসপাতাল নামেও বিখ্যাত।
স্যার গঙ্গা রাম ১৮৫১ সালের ১৩ এপ্রিল পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মাংটানওয়ালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অমৃতসর চলে যান। সেখানে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাস করেন এবং পরে সহকারী ইঞ্জিনিয়র নিযুক্ত হন। পরে ইম্পেরিয়াল অ্যাসেম্বলি নির্মাণে সহায়তা করার জন্য তাঁকে দিল্লিতে ডাকা হয়।
গঙ্গা রাম ১৯২৭ সালের ১০ জুলাই লন্ডনে প্রয়াত হন। যদিও এরপরে তাঁর উত্তরাধিকার লাহোরে ছিলেন। কিন্তু, দেশভাগের পরে তাঁর পরিবার দিল্লিতে আসেন। স্যার গঙ্গা রাম কৃষিকাজে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন এবং সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৫০,০০০ একর অনুর্বর জমি লিজ নিয়েছিলেন। যা তিনি উর্বর ক্ষেতে রূপান্তরিত করেছিলেন। সেই জমি চাষ হত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তোলা জলে।। এই জলবিদ্যাৎ কেন্দ্রটি তিনি নিজেই তৈরি করেছিলেন হাজার মাইল দীর্ঘ সেচ খালের মাধ্যমে - যা আগে কখনও শোনা যায়নি। তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছিলেন এবং এর বেশিরভাগই দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেছিলেন।
তিনি কীভাবে 'স্যার' উপাধি পেলেন?
'দ্য গারল্যান্ড' গল্প অনুসারে, লেখক দেশভাগের সময় একটি সত্য ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যেখানে জনতা লাহোরে স্যার গঙ্গা রামের হাসপাতালের সামনে তার মূর্তি ভাঙার চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনায় তাদের মধ্যে একজন আহত হন। তিনি পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনতা চিৎকার করে বলে, "চলো তাঁকে স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালে নিয়ে যাই।" গঙ্গা রামের সমাজসেবা এবং জনহিতকর কাজে মুগ্ধ হয়ে ব্রিটিশ সরকার তাকে 'স্যার' উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
গঙ্গা রাম হাভেলি পুনরুদ্ধার
গঙ্গা রাম হাভেলিটি সম্প্রতি ফারাজ জাইদি নামে একজন ব্যবসায়ী সংস্কার করেছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন, যিনি একই কাজ করার জন্য এবং তাঁর ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ওই ব্যবসায়ীকে ধন্যবাদ জানান।
















